বক্সনগর, ১৪ এপ্রিল: বুথ কেন্দ্রের মধ্যে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বক্সনগরের বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে কলমচৌড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে আক্রান্ত অভিরাম দেববর্মা এই অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা গেছে, ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় অভিরাম দেববর্মা বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেই কারণে অভিযোগপত্র থানায় জমা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে দয়ালপাড়ার ২ জন, মানিক্যনগরের ১ জন, পুটিয়ার ৮ জন, রহিমপুরের ৩ জন, আশাবাড়ির ৬ জন, মধ্য বক্সনগরের বিধায়কসহ ৭ জন, বক্সনগরের ৪ জন, কলশীমুড়ার ৩ জন এবং বাগবেরের ১ জন রয়েছেন।
বাদীপক্ষের দাবি, সকাল প্রায় সাড়ে নয়টা নাগাদ প্রায় ২০০ জন দুষ্কৃতীকে নিয়ে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। এসময় তিপ্রা মথার নেতা-কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে বিধায়ক তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এরপর স্থানীয় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই দুষ্কৃতীকে এলাকায় পাঠানো হয়। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল পুটিয়ার হানিফ ওরফে মামন এবং পেছনে বসা কলশীমুড়ার আলমগীর হোসেনের কাছে বোমা ছিল। তারা এলাকায় বোমা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিধায়কের নির্দেশে ভোটকেন্দ্রের সামনে মধ্য বক্সনগরের আনোয়ার হোসেন বোমা নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ। একই সময়ে কাউসার আহম্মেদ, ফরহাদ হোসেন, জয়নাল হোসেন এবং রাসেল মিয়াকে পিস্তল থেকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পুলিশের এসআই রাম কৃশানসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় ভোটার আহত হন। পরবর্তীতে তিপ্রা মথার কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তিপ্রা মথার অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে রেগিং করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনায় বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার, প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



















