আগরতলা, ১২ এপ্রিল: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ত্রিপুরা রাজ্য পরিষদ আজ অনুষ্ঠিত টিটিএএডিসি নির্বাচনে সংঘটিত ব্যাপক সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুরুতর অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি আসনে প্রায় ৭৮% ভোটগ্রহণ হয়েছে। কিন্তু এই ভোটগ্রহণ কোনোভাবেই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা হয়েছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বুথে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বা বুথের ভেতরে থাকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের শাসক জোটের দুই শরিকের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে টিটিএএডিসি এলাকায় উত্তেজনা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৬-বীরচন্দ্রনগর–কলসি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পোলিং কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব ছিল, যার ফলে বুথের ভেতরে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই অনিয়মগুলি বিশেষভাবে সিপিআই পোলিং এজেন্টদের ক্ষেত্রে অযথা উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সকাল ১০টার পর বারবার রিটার্নিং অফিসার ও শান্তিরবাজারের মহকুমা শাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতেও উনার তরফ থেকেও কোনও যোগাযোগের চেষ্টা হয়নি। এছাড়াও, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে উক্ত কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে হঠাৎ পরিবর্তন উক্ত কেন্দ্রে আরও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে।
এছাড়াও গুরুতর অনিয়ম হিসেবে ২৬/৩৩ নং বুথে পোলিং এজেন্টদের দেওয়া ফর্ম ১৯সি-তে মোট ভোটার সংখ্যা এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতার উপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
এছাড়াও, আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্ব কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বিজেপি এবং তিপ্রা মথার নেতারা সামাজিক মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে গেছেন। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ২–৩ ঘণ্টা পর বিজেপি বিধায়ক সম্ভু লাল চাকমা সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে ভোটারদের বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে বিজেপি ও তিপ্রা মথার অন্যান্য নেতারাও ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।
শাসক জোটের উভয় শরিক ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিরোধী পোলিং এজেন্টদের হুমকি, পারস্পরিক আক্রমণের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয়, ভোটগ্রহণের শেষ সময় যত ঘনিয়ে এসেছে, সহিংস ঘটনার সংখ্যা ও তীব্রতা ততই বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও অস্ত্র ও বোমা ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা ত্রিপুরার নির্বাচনী ইতিহাসে বহু বছর পর দেখা গেল। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।
সিপিআই দৃঢ়ভাবে মনে করে যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সমস্ত দাবি সত্ত্বেও তারা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড রক্ষা করতে পারেনি।
বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ক্রমাবনতিরই প্রতিফলন। সিপিআই সমস্ত সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনার উপর অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে । সিপিআই ত্রিপুরার জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকারের সুরক্ষায় সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
———-



















