News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় : দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে বরখাস্ত টিএসআর জওয়ান পাবেন অবসরকালীন সুবিধা
Image

ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় : দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে বরখাস্ত টিএসআর জওয়ান পাবেন অবসরকালীন সুবিধা

আগরতলা, ২৭ মার্চ : দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর)-এর এক জওয়ানকে আংশিক স্বস্তি দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জওয়ানকে বরখাস্ত না দেখিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং তাঁকে সমস্ত অবসরকালীন ও পেনশন সুবিধা প্রদান করতে হবে।

বিচারপতি টি আমরনাথ গৌড় ও বিচারপতি এস দত্ত পুরকায়স্থর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের দায়ের করা রিট আপিলের শুনানি চলাকালীন এই নির্দেশ দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ মে সিঙ্গল বেঞ্চ রিট মামলা নং ৬৪/২০২৪ মামলায় শৃঙ্খলামূলক, আপিল ও রিভিশন সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুরে কর্মরত ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের এক রাইফেলম্যানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের মে মাসে অভিযোগ ওঠে, তিনি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ও সরকারকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর ভিত্তিতে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস অ্যাক্ট, ১৯৮৩ এবং সিসিএ রুলস, ১৯৬৫ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

প্রথমে ২৩ আগস্ট ২০২১ তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা পরে ২ অক্টোবর ২০২১ শৃঙ্খলামূলক কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক অবসরে রূপান্তর করে। পরবর্তীতে তাঁর আপিল ও রিভিশন খারিজ হয়ে যায়।

এরপর তিনি হাইকোর্টে দ্বারস্থ হলে সিঙ্গল বেঞ্চ পূর্ববর্তী সব আদেশ বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। তবে রাজ্য সরকার আপিলে দাবি করে, সংশ্লিষ্ট জওয়ান ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস (কন্ডাক্ট) রুলস, ১৯৮৮-এর ২১ নম্বর বিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁকে যথাযথ সুযোগ দিয়েই বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, ২০ বছরেরও বেশি চাকরি ও পারিবারিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানায়, অভিযুক্ত জওয়ান তদন্তে অংশগ্রহণের পূর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন এবং নিজের পক্ষে সাফাই দেওয়ার সুযোগও ছিল। আদালত স্বীকার করে, তিনি নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। তবে ব্যক্তিগত আইনের প্রেক্ষিতে এটি ফৌজদারি অপরাধ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

আদালত আরও জানায়, এই ধরনের অসদাচরণ চাকরি থেকে অপসারণের জন্য যথেষ্ট হলেও, সমস্ত অবসর সুবিধা কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর নয়। তাই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বাতিল করে ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, সংশ্লিষ্ট জওয়ানকে তাঁর বরখাস্তের তারিখ থেকেই বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।

এছাড়া আদালত নির্দেশ দেয়, ছয় মাসের মধ্যে সমস্ত অবসরকালীন ও পেনশন সুবিধা প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১২ শতাংশ বার্ষিক হারে সুদ দিতে হবে। এই নির্দেশের মধ্য দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

Releated Posts

প্রতিভা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ আগস্ট: গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস-এ অস্মিতা দে-র সাফল্য এবং দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে ইতিহাস…

ByByReshmi Debnath Aug 12, 2026

জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ আগস্ট: হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি বর্তমানে দেশে একটা বৃহৎ জনআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByByReshmi Debnath Aug 12, 2026

বিভিন্ন দপ্তরে ৫৫২টি শূন্যপদে লোক নিয়োগ করা হবে: পর্যটনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ আগস্ট: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৫৫২টি শূন্যপদে লোক নিয়োগ করা হবে। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে…

ByByReshmi Debnath Aug 12, 2026

বেসরকারিকরণের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভোক্তাদের উপর চাপ বাড়ছে, অভিযোগ প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রীর

আগরতলা, ১২ আগস্ট: স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সমস্যা এবং বিদ্যুতের বাড়তি মাশুলের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা বর্তমানে দ্বৈত সংকটের মুখে…

ByByTaniya Chakraborty Aug 12, 2026
Scroll to Top