গ্লোবাল সাউথের প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে ভারত: ধর্মেন্দ্র প্রধান

মুম্বই, ২২ মার্চ: আগামী দশকে ভারতের তরুণ উদ্ভাবকেরা শুধু দেশের নয়, বিশ্বের—বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ ও উদীয়মান অর্থনীতির প্রযুক্তিগত চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

মুম্বইয়ের আইআইটি বম্বে-এ ‘ভারত ইনোভেটস’ ডিপ-টেক প্রি-সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের একাডেমিয়া, শিল্পক্ষেত্র, আর্থিক সংস্থা এবং যুবসমাজ—এই চারটি স্তম্ভই ভারতকে বৃহত্তর প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের শক্তিতে পরিণত করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল লেনদেন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা এবং জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বিশ্বে আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তি সহজে গ্রহণ করতে পারবে না, বরং ভারতের প্রযুক্তির দিকেই তারা বেশি আগ্রহী।

ধর্মেন্দ্র প্রধান “ইন্ডিয়া-ফাস্ট” দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতি যত বড় হবে, ততই মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও ব্যয়ের চাহিদা পূরণে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়বে। পাশাপাশি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, ‘ভারত ইনোভেটস’ উদ্যোগকে ভবিষ্যতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে রূপ দেওয়া হবে। গবেষণা ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়োমাস প্রক্রিয়াকরণ, বায়োমেডিসিন এবং হাইড্রোজেন—এই ক্ষেত্রগুলিতে আরও গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান।

এই অনুষ্ঠানে ২০০-র বেশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী। দুই দিনের এই প্রি-সামিটে দেশের ৩,০০০-র বেশি আবেদন থেকে বাছাই করা ১৩৭টি ডিপ-টেক স্টার্টআপ অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ‘ভারত ইনোভেটস’ উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অফ ইনোভেশন’ উদ্বোধনের সময় ঘোষণা করেছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি ভারতের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।

‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ তিনটি ধাপে আয়োজিত হচ্ছে—গান্ধীনগর ও মুম্বইয়ে ন্যাশনাল বেসক্যাম্প, মুম্বইয়ে ডিপ-টেক প্রি-সামিট এবং ফ্রান্সের নিস-এ আন্তর্জাতিক ইনোভেশন প্রদর্শনী।

এই প্রি-সামিটে অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং, স্বাস্থ্য ও মেডটেক, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা, শক্তি ও স্থায়িত্ব, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, স্মার্ট সিটি, কৃষি প্রযুক্তি, শিল্প ৪.০ সহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়েছে।
_____

Leave a Reply