ইসি-র নিরপেক্ষতা নিয়ে মমতার প্রশ্নে সরব বিজেপি-জেডিইউ, পাল্টা সমর্থনে সমাজবাদী পার্টি

নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি ও জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতৃত্ব মমতার সমালোচনায় সরব হয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদ মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ অভিযোগ করেন, এপ্রিলে নির্ধারিত বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন “সংক্ষিপ্ত ও ইচ্ছামতো” পদ্ধতিতে ৫০ জনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেরই উদাহরণ।

এ নিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এভাবে মতামত দেওয়া বা সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই। গত ১৫ বছরে তিনি কীভাবে সরকার চালিয়েছেন এবং রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন, তা সকলেরই জানা। এখন তাঁর হাতে কিছু নেই বলেই চিঠি লিখে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রেখে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিহারে কমিশন সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে, পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচন হবে এবং পরিবর্তন আসবে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে মানুষকে ভয় দেখানো এবং টাকা বিলির মাধ্যমে ভোট জেতার কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু আধিকারিকদের বদলির ফলে সেই পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে, জেডিইউ মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদ বলেন, ভোটের আগে এ ধরনের বদলি নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ। তাঁর দাবি, জনসমর্থন কমে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না বুঝেই মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রসঙ্গেও জেডিইউ নেতা নীরজ কুমার মুখ খোলেন। তিনি বলেন, বিহারেও এসআইআর হয়েছে। মৃত ব্যক্তি, অ-নাগরিক বা একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার ভোটার তালিকায় থাকা উচিত কি না, সেই প্রশ্নই এখন মূল বিষয়। পাশাপাশি, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চান, তাঁর দলের বুথ লেভেল এজেন্টরা সব বুথে রয়েছে কি না। থাকলে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর প্রকাশ করা হোক।

তবে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব কুমার রায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে গণতন্ত্রে “অকল্পনীয় অপহরণ” চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচন ঘোষণার আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার-সহ ৫০ জনের বেশি শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন এবং উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, নিরপেক্ষ থাকার কথা যেসব প্রতিষ্ঠানের, সেগুলিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যা সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও দাবি করেন, ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত বলে মনে হচ্ছে, যা বাংলার মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

Leave a Reply