দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বৈঠক জয়শঙ্কর-রিয়াজ হামিদুল্লার

নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ: ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জয়শঙ্কর লেখেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভারত জানায়, নিজস্ব চাহিদা, পরিশোধন ক্ষমতা এবং ডিজেলের প্রাপ্যতার ভারসাম্য বজায় রেখেই বাংলাদেশ-সহ প্রতিবেশী দেশগুলির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে চলেছে নয়াদিল্লি।

সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ-সহ একাধিক প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। তিনি জানান, ২০০৭ সাল থেকে ভারত বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে এবং এখনও সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

জয়সওয়াল বলেন, ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন, পরিশোধন ক্ষমতা এবং ডিজেলের মজুত মাথায় রেখেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি পরিবহণের রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে ভারত প্রথমে ঘরোয়া ভোক্তাদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটানোর পরই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের জন্য এলপিজি সরবরাহ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিষয়টি এখনও উদ্বেগের জায়গায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের নবগঠিত তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ও গ্রামীণ উন্নয়ন-সহ একাধিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করেন। উভয়পক্ষ গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষিভিত্তিক সমবায় এবং তৃণমূল স্তরে আর্থিক ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়।

ভারতীয় হাইকমিশন এক্স-এ জানায়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ। পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের যৌথ আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং সেই সূত্রে গড়ে ওঠা গভীর সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

দুই পক্ষই পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে কাজ করে ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

Leave a Reply