আগরতলা, ১০ মার্চ:
ত্রিপুরার উত্তর জেলার কদমতলা ব্লকাধীন সরলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের অমৃত সরোবর প্রকল্পের আওতাধীন একটি পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, কয়েক লক্ষ টাকার সরকারি সম্পত্তি দুষ্কৃতিকারীদের একটি দল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কদমতলা ব্লকের সরলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ সকালে একদল দুষ্কৃতিকারী পরিকল্পিতভাবে অমৃত সরোবর প্রকল্পের ওই পুকুরে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে প্রায় চার কুইন্টাল বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তুলে নিয়ে যায় এবং পরে সেগুলি বাজারে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সরলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নমিতা দাস এবং পঞ্চায়েত সচিব আব্দুল বাকির ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ৯ মার্চ বিকেলে কদমতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে কদমতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর জগদানন্দ গোস্বামী পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
পঞ্চায়েত সচিব আব্দুল বাকির জানান, এই ঘটনায় জয় শঙ্কর তাতি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে কদমতলা থানার পুলিশ।
এদিকে সরলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিদ্যাধর কুর্মি অভিযোগ করেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই জনপ্রতিনিধি ঘটনাটি জানার পরও পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। এতে তাদের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নমিতা দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই মাছ চুরির ঘটনায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তি নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।
এখন দেখার বিষয়, কদমতলা থানার পুলিশের তদন্তে এই মাছ চুরির ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসে কি না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

