পরিবেশ সহযোগিতায় ভারত–ফিনল্যান্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নবায়ন

নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ : পরিবেশ সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মৌ) নবায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং ফিনল্যান্ডের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সারি মুলটালা এই সমঝোতা স্মারক নবায়ন করেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ভূপেন্দ্র যাদব জানান, ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

নবায়িত এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বায়ু ও জল দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (দূষিত মাটি পুনরুদ্ধারসহ), বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (বিপজ্জনক বর্জ্য, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার), চক্রাকার অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন ব্যবহারে স্বল্প-কার্বন সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজন, পরিবেশ ও বন পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

এছাড়া সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার এবং সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চক্রাকার অর্থনীতি নিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সংলাপ ও যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও দুই পক্ষ পর্যালোচনা করেছে।

উল্লেখ্য, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব-এর ভারত সফরের অংশ হিসেবেই মন্ত্রী সারি মালতালা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রয়েছেন।

এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে ডিজিটালাইজেশন, টেকসই উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ভারত ও ফিনল্যান্ড তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিতে সম্মত হয়েছে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি পরিবেশ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply