তেল আবিব, ৫ মার্চ (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরান অঞ্চলের চারপাশে থাকা “সবাইকে লক্ষ্যবস্তু” করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট বেন কোহেন একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে চলা সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে ইরানের সামরিক হুমকি নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই।
কোহেন বলেন, শনিবার সকালে আমরা ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ শুরু করি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, তাদের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এই বড় নিরাপত্তা হুমকিকে নিষ্ক্রিয় করা।
ইসরায়েলের দাবি, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, বিমান বাহিনীর স্থাপনা এবং নৌবাহিনীর অবকাঠামোসহ একাধিক কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে কোহেন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের একটি ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাঁর কথায়, তেহরানের আকাশে এই ঘটনা ঘটেছে এবং একই সঙ্গে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা অঞ্চলের চারপাশে থাকা সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করতে প্রস্তুত। গত কয়েক দিন ধরে আমরা তারই প্রমাণ দেখছি।
ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে ইরানের এখনও ইসরায়েলকে বড় ধরনের ক্ষতি করার সামর্থ্য রয়েছে। কোহেন বলেন, অতীতের হামলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা প্রতিপক্ষকে কখনও হালকাভাবে নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর আমরা পরিষ্কার বুঝেছি যে শত্রুকে কখনও অবমূল্যায়ন করা যাবে না। ইরানের হাতে এখনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং তারা ইসরায়েলি নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরানের সামরিক কর্মসূচি থেকে তৈরি হওয়া অস্তিত্বগত নিরাপত্তা হুমকি দূর করাই এর উদ্দেশ্য। কোহেনের বক্তব্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা এবং সীমান্তের কাছে প্রক্সি গোষ্ঠী মোতায়েনের উদ্যোগই মূল উদ্বেগের কারণ।
ইসরায়েলি সেনার দাবি, অভিযানের শুরুতেই ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-ও নিহত হয়েছেন বলে কোহেন উল্লেখ করেন।
তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তন বা শাসনব্যবস্থা বদলের প্রশ্নে ইসরায়েল সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি নয়। কোহেন বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল নিরাপত্তা হুমকি দূর করা। ইরানের ভেতরে ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা তাদের নিজেদের বিষয়।

