নিজস্ব প্রতিনিধি, কদমতলা, ৪ মার্চ: কদমতলা থানার প্রত্যেকরায় হোস্টেল সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ত্রিপুরার উত্তর জেলার কদমতলা থানা-র অন্তর্গত পত্যেকরায় গ্রামে ইলেকট্রিক টমটমের ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুই পুলিশ আধিকারিক ও ১৩ নম্বর টিএসআর ব্যাটেলিয়নের তিন জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হন। আহত হয় ধৃত চোরও। ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক পৌনে ১১টা নাগাদ পত্যেকরায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসসি বয়েজ হোস্টেল সংলগ্ন এলাকায় সুমন দেবনাথের বাড়ির সামনে রাখা ব্যাটারি চালিত টমটম থেকে ব্যাটারি চুরির চেষ্টা চালায় দুই দুষ্কৃতী। বিষয়টি টের পেয়ে তাঁর ছেলে অলক দেবনাথ চিৎকার করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। এক দুষ্কৃতী পালিয়ে গেলেও অপরজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধৃত ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে টমটমের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এই ক্ষোভ থেকেই স্থানীয়রা ধৃতকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশ ও ধৃত ব্যক্তির উপর হামলা চালায়। এতে গুরুতরভাবে আহত হন সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জিব সরকার। মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত হন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর জগদানন্দ গোস্বামীও।
এছাড়াও আহত হন ১৩ নম্বর টিএসআর ব্যাটেলিয়নের তিন জওয়ান—নিপেন্দ্র রিয়াং, অসিত লাল দাস ও তনু সিং ত্রিপুরা। ধৃত চোর কবির হোসেন (২৮)ও আহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি চুরাইবাড়ি থানাধীন উত্তর ফুলবাড়ি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

