বঙ্গের এসআইআর: কিছু ইআরও ও এইআরও-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ সিইও দপ্তরের

কলকাতা, ৪ মার্চ (আইএএনএস): রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে কিছু নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) এবং সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (এইআরও) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দপ্তর। এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট নয়াদিল্লিতে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন-র সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সিইও দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই।

সিইও দপ্তরের এক সূত্রের দাবি, শুনানি পর্বে ভোটারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নথি একই দিনে অনলাইনে আপলোড করার নির্দেশ ছিল কমিশনের। কিন্তু কিছু ইআরও ও এইআরও ইচ্ছাকৃতভাবে সেই নথি আপলোডে বিলম্ব করেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তা ঝুলিয়ে রাখেন। এর জেরে বিপুল সংখ্যক নথি শেষপর্যন্ত বিচারাধীন (জুডিশিয়াল অ্যাডজুডিকেশন) পর্যায়ে পাঠাতে হয়।

রিপোর্টে এই ধরনের ইচ্ছাকৃত বিলম্বের নির্দিষ্ট ঘটনাগুলিও চিহ্নিত করে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি মামলা বিচারাধীন পর্যায়ে থাকায় সেগুলি বাদ দেওয়া হয়। জানানো হয়, বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (এক্সিকিউটিভ) অফিসারস অ্যাসোসিয়েশন এবং সিইও দপ্তরের মধ্যে বিবৃতি-যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

প্রথমে সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল ইচ্ছাকৃতভাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কিছু নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার দায় ইআরও ও এইআরও-দের ওপর চাপিয়েছেন।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিইও দপ্তর পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানায়, সমস্ত বিচারাধীন মামলার দায় সাধারণভাবে ইআরও বা এইআরও-দের সিদ্ধান্তহীনতার উপর আরোপ করা হয়নি। তবে কিছু নির্দিষ্ট মামলা তাঁদের স্তরে ঝুলে ছিল এবং সেই কারণেই সেগুলি বিচারাধীন পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে—যা তথ্যভিত্তিকভাবে যাচাইযোগ্য।

পাল্টা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে ডিমড ডেপুটেশনে থাকা আধিকারিকদের মুখপাত্রের ভূমিকা নেওয়া উচিত নয়। শোনা কথার ভিত্তিতে মন্তব্য করা বা সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের প্রযোজ্য আচরণবিধির ‘লক্ষ্মণরেখা’র মধ্যেই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply