বারওয়ানি, ২ মার্চ (আইএএনএস): অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক ও জৈব চাষ পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানালেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। সোমবার বারওয়ানিতে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘কৃষক কল্যাণ বর্ষ ২০২৬’-এর প্রেক্ষিতে প্রথম ‘কৃষি মন্ত্রিসভা’ বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি এই আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক চাষের শুরুতে উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে, তবে এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে উৎপাদনক্ষমতাও বাড়ে। তাঁর দাবি, প্রচলিত চাষ পদ্ধতি থেকে প্রাকৃতিক ও জৈব চাষে রূপান্তরের জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যাতে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়।
এই উপলক্ষে মোহন যাদব ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিমাড়-মালওয়া অঞ্চলের লোকদেবতা ভিলাট দেবের মন্দিরে গিয়ে রাজ্যের কৃষকদের সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিমাড় অঞ্চলের মানুষ ভাগ্যবান যে তাঁদের পায়ের কাছে পবিত্র নর্মদা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। নর্মদার জল সেচের কাজে ব্যবহার করে নিমাড় অঞ্চলের কৃষকেরা আরও সমৃদ্ধ ও অগ্রগামী হচ্ছেন। বারওয়ানি-সহ নিমাড় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নর্মদার জল সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত বারওয়ানি জেলায় ‘কৃষি মন্ত্রিসভা’ আয়োজন করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে কৃষক উন্নয়নে রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ভাবান্তর যোজনায় সরিষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘কালো ছোলা প্রণোদনা প্রকল্প’-এর আওতায় কালো ছোলার প্রতি কুইন্টালে ৬০০ টাকা বোনাস দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ডাল ও তেলবীজ-সহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের উৎপাদনে মধ্যপ্রদেশ দেশেই শীর্ষস্থানীয়। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে রাজ্যকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
_______

