বাইজলবাড়িতে বিজেপি জনজাতি মোর্চার বাইক র‍্যালি ঘিরে উত্তেজনা, জাতীয় সড়ক অবরোধ

আগরতলা, ২১ ফেব্রুয়ারি: রামচন্দ্র ঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বাইজলবাড়ি এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির জনজাতি মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত বাইক র‍্যালিকে কেন্দ্র করে আজ তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ ও পথ অবরোধের জেরে খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাইজলবাড়িতে একটি বৃহৎ বাইক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার পাশাপাশি জনজাতি মোর্চার রাজ্য নেতৃত্ব প্রসেনজিৎ দেববর্মার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। প্রসেনজিৎ দেববর্মার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

অভিযোগ, তিপরা মথার কর্মী-সমর্থকেরা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি, প্রসেনজিৎ দেববর্মার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করছে না। উল্টে তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তা অবরোধের ফলে জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস। পুলিশের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

এদিকে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বাইজলবাড়ি থেকে পদ্মবিল পর্যন্ত বিজেপি জনজাতি মোর্চার বাইক র‍্যালি সম্পন্ন হয়। র‍্যালিতে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা ও প্রসেনজিৎ দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, এডিসি এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়ে বিজেপিকে আটকানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রঞ্জিত দেববর্মা অতীতে উগ্রবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই বিষয়ে রঞ্জিত দেববর্মা বা তিপরা মথা শিবিরের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে দুই রাজনৈতিক শিবিরের এই সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। ঘটনার পর গোটা খোয়াই মহকুমা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

Leave a Reply