মেঘালয়ে অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ: কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, প্রত্যেক পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা রাজ্যের, শোক প্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর

শিলং, ৬ ফেব্রুয়ারি : মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলায় অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যুর পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা। শুক্রবার তিনি জানান, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের দুই মন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মৃতের পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ওই ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজের অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা, যার মধ্যে রেঞ্জের আইজি-ও রয়েছেন, পাশাপাশি খনি দপ্তরের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

সাংমা স্পষ্ট করে বলেন, এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে কোনওভাবেই অবৈধ খনন কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আরও জানান, রাজ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন আইনসম্মত খনন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। যখন বৈধ বিকল্প উপলব্ধ, তখন এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট আত্মীয়কে ৩ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন সাংমা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলার প্রত্যন্ত থাংস্কু এলাকায় একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং আরও কয়েকজন শ্রমিক খনির ভিতরে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী সাংমার সঙ্গে ফোনে কথা বলে উদ্ধারকাজে কেন্দ্রের তরফে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, মেঘালয় হাইকোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা গ্রহণ করেছে। আদালত পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলসের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবৈধ খননের সঙ্গে যুক্ত খনি মালিক ও পরিচালকদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা ফের রাজ্যে অবৈধ কয়লা খননের সমস্যা সামনে এনেছে। উল্লেখ্য, পরিবেশগত ক্ষতি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জাতীয় পরিবেশ ট্রাইবুনাল (এনজিটি) ২০১৪ সালে মেঘালয়ে ‘র‌্যাট-হোল’ খননসহ অবৈজ্ঞানিক কয়লা খনন নিষিদ্ধ করেছিল। তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে একাধিক প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কেবল বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতেই খনন কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হবে এবং সমস্ত খনিশ্রমিক ও খনি মালিকদের আইনসম্মত লাইসেন্স নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।