নিউ ইয়র্ক, ৪ ফেব্রুয়ারী : নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৬৪তম ইউএন কমিশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অধিবেশনে ভারতের অধিকারভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন পদ্ধতি তুলে ধরল কেন্দ্র। মন্ত্রীপর্যায়ের ফোরামে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাভিত্রী ঠাকুর।
“কোপেনহেগেন থেকে দোহা: সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক দ্বিতীয় বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল কাজে লাগিয়ে ২০৩০ এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য জাতীয় উদ্যোগ জোরদার করা” শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায় ভারতের ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’ জাতীয় দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কোপেনহেগেন ঘোষণা উন্নয়নের কেন্দ্রে মানুষকে স্থান দিয়েছিল এবং দোহা রাজনৈতিক ঘোষণা উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে সেই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাঁর কথায়, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” শাসনদর্শন সরকারের সর্বস্তর ও সমাজের সর্বস্তরের সমন্বিত প্রয়াসের প্রতিফলন, যার লক্ষ্য সবার মর্যাদা, সমতা ও সুযোগ নিশ্চিত করা।
ভারতের সামাজিক সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৮০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ রয়েছেন। ৫৫০ মিলিয়নেরও বেশি নাগরিক বিস্তৃত হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পাচ্ছেন। ১৬ হাজারের বেশি জন আরোগ্য কেন্দ্রে সুলভ মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থায় ১৪.৫ লক্ষের বেশি নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন—এটিকে তিনি তৃণমূল গণতন্ত্রে ভারতের অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ‘বেটি বচাও বেটি পড়াও’ ও ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’র মতো প্রকল্পের উল্লেখ করে কন্যাশিশুর শিক্ষা ও আর্থিক সুরক্ষা জোরদারের কথা বলেন।
শ্রম সংস্কারের মাধ্যমে সমান মজুরি, কর্মস্থলে সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উদ্যোগও তিনি তুলে ধরেন। জামানতবিহীন ঋণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নারী, উদ্যোক্তা ও পথবিক্রেতা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান। ‘স্মাইল’–এর মতো লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও তিনি বলেন।
সাভিত্রী ঠাকুর জানান, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে একত্রিত করে ভারতের উন্নয়নযাত্রা স্বচ্ছতা ও শেষ প্রান্ত পর্যন্ত কল্যাণমূলক সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে।
“বাসুধৈব কুটুম্বকম”—এই সভ্যতাগত মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি সামাজিক ন্যায় অগ্রসর করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের প্রস্তুতির কথা জানান। অধিবেশনে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভা শেষে সুইডেনের সামাজিক পরিষেবা মন্ত্রী ক্যামিলা ওয়াল্টারসন গ্রনভালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন সাভিত্রী ঠাকুর।

