আগামীদিনে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে যুব সমাজ: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১২ জানুয়ারি: আগামীদিনে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে যুব সমাজ। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই প্রতিভা রয়েছে। তাদের এই প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে সমাজের সকল অংশের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে শিশু মেলার মতো মঞ্চ সেই উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হচ্ছে।

                                আজ আগরতলার বড়দোয়ালির মধ্যপাড়ায় নব-অঙ্গীকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার ১৭তম বার্ষিক শিশু মেলা উপলক্ষ্যে আয়োজিত রক্তদান ও যুব উৎসবের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, যুব সমাজ হচ্ছে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ মানব সম্পদ। তারাই আগামীদিনে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে। স্বামী বিবেকানন্দের জীবনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তা, চেতনা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। তাই আজকের দিনে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। স্বদেশী ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা নিয়ে দেশের উন্নয়নে যুবসমাজ এগিয়ে আসলেই দেশ আরও শক্তিশালী হবে।

                            অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রাচীন গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষা কেন্দ্রগুলির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতবর্ষের অর্থনীতিকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
                       মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘নিউ ইন্ডিয়া’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকারও ‘নিউ ত্রিপুরা’ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের অর্থনীতিরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ত্রিপুরার জিএসডিপি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। মাথাপিছু গড় আয়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নীতি আয়োগের প্রকাশিত সূচকে ত্রিপুরা ফ্রন্ট রানার রাজ্য হিসেবে উন্নীত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সমাজের সকল অংশের মানুষকে নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

                       অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের কর্পোরেটর সম্পা সরকার চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বি কে রায়, সমাজসেবী শ্যামল কুমার দেব, প্রাক্তন কাউন্সিলার জয়ন্ত চৌধুরী, নব অঙ্গীকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি কিশোর মজুমদার, সম্পাদক দেবদাস বক্সি সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে এলাকার কয়েকজন যুবক-যুবতীকে সংবর্ধিতও করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির পরিদর্শন করে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ।

Leave a Reply