নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১২ ডিসেম্বর:
নেতাজি নগর মোটর স্ট্যান্ড সংলগ্ন সাধারণত শান্ত এলাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ড্রাগস-আসক্ত এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা তেলিয়ামুড়া। নারায়ণ মাদ্রাজি নামে নেশাগ্রস্ত ওই যুবকের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণ অতিরিক্ত মাদকাসক্ত ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত ড্রাগস সেবনের জেরে তার মৃত্যু হয়। আরও জানা গেছে, তিনি বহুদিন ধরে একই এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত সরকার ওরফে ‘পেরু’-র কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন। এলাকায় ‘পেরু’ তেলিয়ামুড়ার মাদকচক্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে কুখ্যাত।
নারায়ণের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় তার স্কুটি; আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় একটি দোকানে। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের ডি.সি.এম ও এস.ডি.পি.ও-এর নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাতেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ—“পেরুর দৌরাত্ম্যে তেলিয়ামুড়া বহুদিন ধরে মাদকাসক্তির নরকে ডুবে আছে। অসংখ্য যুবকের জীবন নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।”
এই ঘটনার জেরে মাদকবিরোধী জনমত আরও তীব্র হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—“আর কত মৃত্যুর পর প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?”
তেলিয়ামুড়ার মানুষ এখন একটি স্পষ্ট প্রত্যাশা করছে—মাদকমুক্ত সমাজ। এখন দেখার, এই জনরোষ আদৌ প্রশাসনের কঠোরতায় রূপ নেয়, নাকি সময়ের সাথে সাথে আবারও থিতিয়ে যায় ক্ষোভের আগুন।

