পাটনা, ৩০ অক্টোবর : বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার মুজফ্ফরপুরে এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তিনি দু’জনকে আখ্যা দিলেন “দুর্নীতির যুবরাজ” বলে এবং কংগ্রেস–আরজেডি জোটকে তুলনা করলেন “তেল ও জল”-এর সঙ্গে — “একই গ্লাসে থাকতে পারে না,” বললেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদির কথায়, “এই নির্বাচনের আসল খবর আমার বিরুদ্ধে কটূক্তি নয়, বরং আরজেডি ও কংগ্রেসের ভেতরের লড়াই।” তিনি আরও বলেন, “গতকাল দুই তথাকথিত যুবরাজ দেখানোর চেষ্টা করেছিল যে তাদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই, কিন্তু আসলে ক্ষমতার লোভই তাদের এক করেছে।”
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দুই যুবরাজ মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দোকান খুলেছে — একজন দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারের যুবরাজ, আর অন্যজন বিহারের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারের যুবরাজ। দু’জনেই জামিনে মুক্ত।”
মোদি আরও যোগ করেন, “এরা দিনরাত মোদিকে গালাগাল করে, কারণ তারা সহ্য করতে পারে না যে এক গরিব ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের মানুষ আজ এই স্থানে পৌঁছেছে। যারা নামদার, তারা স্বাভাবিকভাবেই কামদারকে অপমান করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় এই দু’জনই জামিনে আছে। এরা আমাকে অপমান করলেই খুশি হয়। কিন্তু এতে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হবে না।”
বিহার সফরের এই জনসভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী এনডিএ’র নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন, এর আগে তিনি ২৪ অক্টোবর সমস্তিপুর ও বেগুসরাইয়ে সভা করেছিলেন।
মোদির দাবি, “কংগ্রেস–আরজেডি জমানায় সম্মান বা পুরস্কার দেওয়া হত তাদেরই, যারা রাজনৈতিক মালিকদের পায়ে মাথা রাখত। এই মানসিকতা নিয়ে তারা কখনও গরিবের উন্নয়ন করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের ন্যায়বিচারের নামে আরজেডি–কংগ্রেস জোট শুধু বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এরা বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ভাবনা ও উত্তরাধিকারের প্রতি অবমাননা করেছে। যেখানে সমগ্র দেশ আম্বেদকরকে শ্রদ্ধা জানায়, সেখানে এরা তাঁর নাম মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজেপি–এনডিএ সরকার সেই পথেই চলছে, যা আম্বেদকর দেখিয়েছিলেন।”
ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, “আমরা ‘বিএইচআইএম’ নামে একটি ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি, যা মোবাইল ফোনে সহজেই টাকা পাঠানো ও গ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে। এটি আম্বেদকরের ভাবনা থেকেই অনুপ্রাণিত।”
উল্লেখ্য, বিহার বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায়, ৬ ও ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর।

