গুয়াহাটি, ২১ অক্টোবর: আসামে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোমবার (২১ অক্টোবর) ঘোষণা করেন যে, ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাঁরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন,“বিশ্বে ৭টি আশ্চর্যের কথা সবাই জানে, কিন্তু অষ্টম আশ্চর্য হলো বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা, যারা আসামে ঢুকে জমি দখলের চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও লেখেন,“তবে সুসংবাদ হল, আমরা এই ‘আশ্চর্য’ গুলিকে আর ঘুরে বেড়াতে দেব না। ৮টি ‘অ্যালিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ডের ‘পুশড ব্যাক’, বাই।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই রসিকতা ও তীব্র ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এর একদিন আগেই, হিমন্ত শর্মা জানিয়েছিলেন যে, ১৮ জন বাংলাদেশিকে শ্রীভূমি জেলা থেকে সকালেই ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই টুইটে মুখ্যমন্ত্রী ক্রিকেটার বিরাট কোহলির ‘স্ট্রেট ড্রাইভ’ এর সঙ্গে তুলনা করে লেখেন —
“বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদেরও আমরা ঠিক কোহলির স্ট্রেট ড্রাইভের মতো সোজাসুজি তাদের অঞ্চলে ফেরত পাঠাচ্ছি।”তিনি আরও লেখেন, “এই দীপাবলিতেই শুভ শক্তির জয় হবে, অশুভের পরাজয় নিশ্চিত।”
আসামের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার, যা অত্যন্ত দুর্ভেদ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই সীমান্ত দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ এক জটিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
হিমন্ত শর্মার এই বক্তব্য ও পদক্ষেপে স্পষ্ট যে রাজ্য সরকার বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
আসামে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে ফের ৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট — অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আর কোনও জায়গা নেই আসামে।

