৩২,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে সফল ‘কমব্যাট ফ্রি-ফল’ জাম্প, ডিআরডিওর স্বদেশে নির্মিত প্যারাশুট সিস্টেমে আত্মনির্ভরতার ঐতিহাসিক মাইলফলক

নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর: প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার ডিআরডিওর তৈরি দেশীয় প্রযুক্তির মিলিটারি কমব্যাট প্যারাশুট সিস্টেম-এর সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই প্যারাশুট সিস্টেম থেকে ৩২,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে সফলভাবে কমব্যাট ফ্রি-ফল জাম্প সম্পন্ন হয়েছে, যা ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার পথে এক “অসাধারণ মাইলফলক” হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক্স-এ পোস্ট করে জানান, “গর্বের মুহূর্ত! ডিআরডিওর তৈরি স্বদেশি এমসিপিএস প্যারাশুট সিস্টেম থেকে ৩২,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে কমব্যাট ফ্রি-ফল জাম্প সফলভাবে হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য।”

এই প্যারাশুট সিস্টেমটি ডিআরডিওর দুইটি ল্যাব — আগ্রার আগ্রার এরিয়াল ডেলিভারি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট এবং বেঙ্গালুরুর ডিফেন্স বায়োইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেক্ট্রোমেডিকেল ল্যাবরেটরি — যৌথভাবে তৈরি করেছে। এমসিপিএস-এর সফল জাম্পটি সম্পাদন করেন ভারতীয় বায়ুসেনার পরীক্ষামূলক জাম্পার উইং কমান্ডার বিশাল লাখেশ, মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার আর জে সিং এবং বিবেক তিওয়ারি। এই জাম্পে ৩০,০০০ ফুট উচ্চতায় প্যারাশুট মোতায়েন করা হয়, যা বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত একমাত্র সিস্টেম যা এত উচ্চতায় কার্যকরভাবে মোতায়েনযোগ্য।

সিস্টেমটিতে রয়েছে উন্নত কৌশলগত বৈশিষ্ট্য— কম গতি নিয়ে অবতরণের ক্ষমতা, উন্নত স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় নির্ভুলভাবে নেমে পড়ার সক্ষমতা। এটি ভারতের নিজস্ব ন্যাভিগেশন সিস্টেম নাভিক-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার ফলে শত্রুপক্ষ দ্বারা জ্যামিং বা সার্ভিস ডিনায়াল সম্ভব নয়। এই সাফল্যের ফলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ২৫,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় ব্যবহারের উপযোগী এক উন্নত প্যারাশুট সিস্টেম পেতে চলেছে, যা বিশেষ বাহিনীর কৌশলগত ক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে।

ডিআরডিও জানিয়েছে, এমসিপিএস-এর সাফল্য ভবিষ্যতে বিদেশি সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা হ্রাস করবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সময়ও তুলনামূলকভাবে কম লাগবে। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকর ও স্বাধীন অপারেশন চালানো সম্ভব হবে। এমসিপিএস ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।