বিশ্বে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১.৫ কোটির বেশি কিশোর ই-সিগারেট ব্যবহার করে: ডব্লিউএইচও-র প্রতিবেদন

জেনেভা, ৭ অক্টোবর : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন (১.৫ কোটি) কিশোর (বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর) ই-সিগারেট বা ভ্যাপ ব্যবহার করছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় এই বয়সী কিশোররা গড়ে নয় গুণ বেশি হারে ই-সিগারেটের প্রতি আসক্ত, এমন চিত্র উঠে এসেছে যেসব দেশের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে, তাদের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে।

এটি ডাব্লুএইচও-র ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রথম বৈশ্বিক মূল্যায়ন, যেখানে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১০ কোটিরও বেশি মানুষ ই-সিগারেট ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে ৮.৬ কোটি ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের বেশিরভাগই উচ্চ-আয় সম্পন্ন দেশগুলির নাগরিক।

এই তথ্য সামনে এল এমন এক সময়ে যখন বিশ্বব্যাপী ধূমপান কমছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০০০ সালে যেখানে বিশ্বে ধূমপায়ীর সংখ্যা ছিল ১.৩৮ বিলিয়ন, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.২ বিলিয়নে। কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও নীতিমালার কারণে ধূমপানের হার কমলেও, তামাক শিল্প বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, যার মধ্যে ভ্যাপ বা ই-সিগারেট অন্যতম।

তামাক কোম্পানিগুলি দাবি করে যে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের জন্য কম ক্ষতিকর পণ্য তৈরি করছে যাতে তারা ধূমপান ছাড়তে পারেন। তবে ডব্লিউএইচও-এর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এতিয়েন ক্রুগ বলেছেন, “ই-সিগারেটকে ক্ষতিকর পণ্যের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা হলেও, বাস্তবে এটি কিশোরদের মাঝে নতুন নিকোটিন আসক্তি তৈরি করছে এবং দীর্ঘদিনের অগ্রগতি বিপন্ন করছে।”

বিশ্বজুড়ে সরকার এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন এই দ্বন্দ্বের মুখে—ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি নতুন ব্যবহারকারীদের বিশেষ করে কিশোরদের মাঝে আসক্তির পথও খুলে দিচ্ছে।

এদিকে ২০২৪ সালে প্রকাশিত কোকরেন নামক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা নেটওয়ার্কের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে অন্যান্য বিকল্প যেমন নিকোটিন প্যাচ বা চুইংগামের তুলনায় অধিক কার্যকর হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আরও গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

তামাক ব্যবহারের হ্রাস বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন হারে ঘটেছে। যেমন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পুরুষ ধূমপায়ীর সংখ্যা ২০০০ সালে যেখানে ছিল ৭০ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা কমে ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক ধূমপান হ্রাসের অর্ধেকের বেশি হিস্যা।

অন্যদিকে, ইউরোপে বর্তমানে ধূমপানের হার সর্বোচ্চ (২৪.১%), এবং নারীদের মধ্যে ধূমপানের হারও সর্বোচ্চ (১৭.৪%)।

ডব্লিউএইচও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এখনো বিশ্বে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন, যা উদ্বেগজনক। সংস্থাটি আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ ও ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিন পণ্যের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।