নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর: দেশের অন্যতম শীর্ষ সরকারি ব্যাংক ব্যাংক অব বরোদা** একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং সংস্থার প্রাক্তন পরিচালক অনিল আম্বানির ঋণ হিসাবকে ‘প্রতারণামূলক’ ঘোষণা করেছে। এই তথ্য ব্যাংকটি বৃহস্পতিবার এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানিয়েছে।
এই শ্রেণীবিন্যাসটি আরকম-এর কর্পোরেট ইনসোলভেন্সি রিজোলিউশন প্রসেস শুরু হওয়ার আগের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বর্তমানে, আরকম ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড, ২০১৬-এর আওতায় সিআইআরপি-এ রয়েছে এবং সংস্থাটির ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন রেজোলিউশন প্রফেশনাল অনীশ নিরঞ্জন নানাভাটি।
সংস্থার দাবি, এই ঋণগুলি ইনসলভেন্সি প্রক্রিয়া চলাকালীন রেজোলিউশন প্ল্যান বা লিকুইডেশন-এর মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অনিল আম্বানি, যিনি ২০১৯ সালে আরকম-এর বোর্ড থেকে ইস্তফা দেন, তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক অব বরোদার এই পদক্ষেপ ২০১৩ সালের সময়ের ঘটনা নিয়ে, অর্থাৎ ১২ বছরের পুরনো বিষয়কে কেন্দ্র করে।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আম্বানি ছিলেন শুধুমাত্র নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (২০০৬–২০১৯) এবং কখনও সংস্থার কার্যনির্বাহী বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন না। ফলে দৈনন্দিন কাজ বা ঋণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না।
আরকম জানিয়েছে, সিআইআরপিচলাকালীন আইনের অধীনে সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা রায় কার্যকর করা যায় না। সে কারণে তারা ব্যাংক অব বরোদার এই পদক্ষেপ নিয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট -এর একটি চলমান তদন্ত, যেখানে অনিল আম্বানির গ্রুপ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ঋণ প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডি ইতিমধ্যেই ১২-১৩টি ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্স হাউজিং ফাইন্যান্স, আরকম, এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স। প্রতারণার সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ১৭,০০০ কোটি বলে জানা গেছে।
এর আগেই দেশের বৃহত্তম ঋণদাতা স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া জুন মাসে আরকম-এর ঋণ হিসাব ‘প্রতারণামূলক’বলে ঘোষণা করে। আগস্ট ২৪তারিখে ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া একইভাবে অনিল আম্বানিকে দায়ী করে তহবিল অপব্যবহার ও ঋণের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

