News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • জিএসটি সংস্কার : ৫ ও ১৮ শতাংশ, দুই স্তর কর কাঠামোর প্রস্তাব গ্রহণ মন্ত্রিগোষ্ঠীর
Image

জিএসটি সংস্কার : ৫ ও ১৮ শতাংশ, দুই স্তর কর কাঠামোর প্রস্তাব গ্রহণ মন্ত্রিগোষ্ঠীর

নয়াদিল্লি, ২১ আগস্ট : পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) হার সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত রাজ্যের মন্ত্রীদের মন্ত্রিগোষ্ঠী কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী দুটি কর স্তরের কাঠামো ৫% ও ১৮% গ্রহণ করেছে। এর ফলে বর্তমানে প্রচলিত ১২% ও ২৮% কর স্তর বাতিলের পথে এগোচ্ছে সরকার।

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং জিএসটি হার সংস্কার মন্ত্রিগোষ্ঠীর আহ্বায়ক সম্রাট চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রের উভয় প্রস্তাবই মন্ত্রিগোষ্ঠী গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, বৈঠকে ১২% ও ২৮% কর স্তর বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং বেশিরভাগ সদস্যই এতে সম্মতি জানিয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খন্না জানিয়েছেন, কেন্দ্রের প্রস্তাবে বিলাসবহুল ও তামাকজাত পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিলাসবহুল পণ্য ও তামাকজাত দ্রব্যে বর্তমানে যে করের হার প্রযোজ্য, তা বজায় রাখতে হলে ৪০ শতাংশ জিএসটি-র উপরে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের প্রস্তাবে কর কাঠামোর এই পরিবর্তনে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।

বর্তমানে জিএসটির আওতায় ৫%, ১২%, ১৮% ও ২৮% এই চারটি কর স্তর চালু রয়েছে। খাদ্যসামগ্রী সাধারণত ০% বা ৫% করের আওতায় পড়ে। অন্যদিকে বিলাসবহুল ও তামাকজাত দ্রব্যে ২৮% কর এবং তার উপরে বিভিন্ন সেস আরোপ করা হয়। ১২% ও ২৮% স্তরের আওতাধীন পণ্য ও পরিষেবাগুলি নতুন কর কাঠামোয় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আগামী জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে হবে। সেই বৈঠকে পণ্যভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই জিএসটি আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে যাতে সর্বোচ্চ কর হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যায় এবং বিলাসবহুল পণ্য ও তামাকজাত দ্রব্যে মোট করের হার সর্বোচ্চ স্তরে রাখা যায়।

যদিও কয়েকটি রাজ্য এই সংস্কারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, কিছু রাজ্য রাজস্ব হ্রাসের সম্ভাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তারা চায়, এই সংস্কার চালু হলে কেন্দ্র যেন রাজ্যগুলিকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়। উত্তরপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী সুরেশ খন্না জানান, ১২% ও ২৮% স্তর বিলুপ্তির প্রস্তাব সাধারণ মানুষের পক্ষে সহায়ক হবে। তবে রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি মাথায় রেখেই রাজ্যগুলি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

জিএসটির এই প্রস্তাবিত সংস্কার যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের কর কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। তবে রাজস্ব ক্ষতি এবং রাজ্যগুলির আশঙ্কা মেটাতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা দেখার বিষয়।

Releated Posts

রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক, অমিত শাহকে নিশানা করে অভিযোগে ক্ষমা চাইতে বলল সরকার

নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা…

ByByNews Desk Jul 29, 2026

মোদি সরকারের এফটিএ নীতিতে ৬০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশাধিকার, দাবি পীযূষ গোয়েলের

নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের স্বাক্ষরিত একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য…

ByByNews Desk Jul 29, 2026

আন্দোলন করতে চাইলে পুলিশের মুখোমুখি হতেই হবে, জরুরি অবস্থায় আমিও হয়েছি: রাজ্যসভায় জে.পি. নাড্ডা

নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): ছাত্র আন্দোলন করতে চাইলে পুলিশের পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যসভার সদননেতা…

ByByNews Desk Jul 29, 2026

রাহুল গান্ধীর পরিবারকে ‘বাবরি মসজিদের মতো ধ্বংস’ করার মন্তব্য, কর্নাটকের বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর

বেঙ্গালুরু, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পরিবারকে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার সঙ্গে তুলনা…

ByByNews Desk Jul 29, 2026
Scroll to Top