News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ১৩২ কোটি টাকার ডোনার প্রকল্পে বিশ্ব ব্র্যান্ড হতে চলেছে ত্রিপুরার কুইন আনারস : কৃষিমন্ত্রী
Image

১৩২ কোটি টাকার ডোনার প্রকল্পে বিশ্ব ব্র্যান্ড হতে চলেছে ত্রিপুরার কুইন আনারস : কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ২৭ জুন : ত্রিপুরার কুইন আনারসকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠা করে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ১৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রক। আজ এই কথা জানালেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত ৫ম সিআইআই ত্রিপুরা আনারস উৎসব ২০২৫-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আনারস একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল, যা কলা ও সাইট্রাসের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ত্রিপুরার কুইন ও কিউ আনারস রাজ্যের পাহাড়ি ও আর্দ্র জলবায়ুতে স্বল্প রাসায়নিক ব্যবহারে উৎপন্ন হয় এবং এগুলির স্বর্ণালি বর্ণ ও সুবাস বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

মন্ত্রী জানান, রাজ্যে মোট ফল চাষের জমির পরিমাণ ৫৮,৪৯১ হেক্টর, যার মধ্যে ১১,৮৬২ হেক্টরে আনারস চাষ হয় এবং বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১,৭৪,০১৬ মেট্রিক টন। এখানকার গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি ১৪.৬ টন, যা জাতীয় গড় ১৭ টনের তুলনায় কিছুটা কম। তবে কুইন আনারসের হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ১২ টন, আর কিউ জাতের উৎপাদন ১৫.৭১ টন।

তিনি জানান, ত্রিপুরার কুইন আনারস জি আই ট্যাগ স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এই জাতটির স্বতন্ত্রতা ও গুণমানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে। প্রতিবছর রাজ্যে উৎপাদিত আনারসের মধ্যে প্রায় ১০,০০০ মেট্রিক টন রপ্তানিযোগ্য মানের হয় যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। তাঁর দাবি, ডোনার মন্ত্রক ত্রিপুরার কুইন আনারসকে একটি বিশ্ব বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রচারের পরামর্শ দিয়েছে, যেখানে কৌশলগত বিপণন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দপ্তরের লক্ষ্য হলো স্থানীয় উৎপাদন ও উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি, ফসল তোলার পর ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, ধাপে ধাপে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু করে সারা বছর ফলন নিশ্চিত করা, রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধিকরণ। এই লক্ষ্য পূরণে ডোনার মন্ত্রক, যার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ত্রিপুরার প্রসিদ্ধ কুইন আনারসকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার জন্য ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আমরা কুইন আনারসকে শুধুমাত্র মৌসুমি ফল হিসেবে নয়, সারা বছর ধরে উৎপাদনের লক্ষ্যে ৩৬৫ দিনের স্ট্যাগারিং পদ্ধতির মাধ্যমে চাষ করতে চলেছি এবং প্রাথমিকভাবে ২,০০০ হেক্টর জমিতে এই কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন বিজেপি সরকার আসার আগে আনারস চাষিরা তাঁদের ফলের প্রকৃত মূল্য পেতেন না। কিন্তু এখন রাজ্য সরকার শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রপ্তানির মাধ্যমে তাঁদের ফল বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে কৃষকরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন। রাজ্য সরকার আশাবাদী, এই প্রকল্প ত্রিপুরার কৃষিপণ্য রপ্তানিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Releated Posts

তিনদিনের উৎসব শেষে ত্রিপুরার আনারস শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জুন: তিন দিনব্যাপী ত্রিপুরা গ্লোবাল পাইনঅ্যাপেল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ আজ নয়াদিল্লীতে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। উৎসবের…

ByByReshmi Debnath Jun 29, 2026

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জুন: রাজ্য অতিথিশালার মিলনায়তনে আজ সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের এক পর্যালোচনা সভা…

ByByReshmi Debnath Jun 29, 2026

আগরতলায় কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রীর পরিদর্শন, খতিয়ে দেখলেন বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি

আগরতলা, ২৯ জুন: কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী সোমবার আগরতলার বিভিন্ন নারী ও শিশু কল্যাণমূলক…

ByByReshmi Debnath Jun 29, 2026

উত্তর ত্রিপুরায় ৭.৫ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার এক

আগরতলা, ২৯ জুন: মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ। দামছড়া থানার উদ্যোগে চালানো নিয়মিত যানবাহন…

ByByTaniya Chakraborty Jun 29, 2026
Scroll to Top