রাজ্যের উন্নয়নের বাস্তব চিত্র সেতু নির্মাণে বিলম্ব, সাঁকো দিয়ে পারাপার

নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ১১ ডিসেম্বর৷৷ যারা কৃষক আন্দোলনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তারা কতটুকু কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলি ছাত্রদের স্বার্থের ব্যাপারে চিন্তা করেন৷ কৃষক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্যে স্বার্থের ব্যাপারে আন্দোলনের পাঠ পেয়ে মাঠঘাট গরম করে থাকেন তাদের কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তার খবর কে রাখেন৷ তেলিয়ামুড়া ব্লকের উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামবাবু পাড়া ও ঘিলাতলী রোডের সাথে সংযোগ স্থাপনে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত সেতুর কাজ সমাপ্তি হয়নি৷ ফলে কৃষকদের পাশাপাশি সুকলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের থেকে কৃষকদের নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷
22উত্তরকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামবাবু পাড়াতে প্রায় ৭০টি কৃষক পরিবারের বসবাস৷ আর প্রত্যেকটি পরিবারে একাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে৷ প্রত্যেকের দাবি ছিল সোনাইছড়ার উপর একটি পাকা বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে পাকা সেতু নির্মাণের৷ সবার দাবি মেনে সোনাইছড়ার উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের ওয়াকর্ডার বের হয় বিগত বছর তিনেক পূর্বে৷ যথারীতি তেলিয়ামুড়া ব্লকের বরাদ্দকৃত অর্থে নির্মাণ কাজে হাত দেয় জনৈক এক বাস্তুকার৷ কাজের শুরু থেকেই এলাকাবাসীরা ছড়ার গভীরতা অনুসারে সেতু নির্মাণ কাজের পরামর্শ দেয় বাস্তুকারকে৷ যদিও বাস্তুকার পড়াশুনার দোহাই নিয়ে নিজের মর্জিমাফিক কাজ করে৷ সেতুর উপরস্থলের ঢালাই দিয়ে দেয় রাতের অন্ধকারে৷ যদিও শাসক দলের নির্বাচিত মেম্বার প্রধানদের যৌথ ভাবে ঢালাই প্রক্রিয়া শেষ হলেও৷ বর্ষার মরশুমে ছড়ার জলের হালকা প্লাবিত জলে সেতুর এক প্রান্তের পিলার বালির নিচে চলে যায়৷ তারপরে মহকুমা শাসক সহ তেলিয়ামুড়া মহকুমা বাস্তুকার নির্মাণ কাজের গুণগতমান দেকে আসলেও বিগত কয়েক বছর ধরে কাজটি সমাপ্তি হয়নি৷ এলাকাবাসীরা আজও জানে না আসলে নির্মাণ কাজটি শেষ হবে কিনা৷ বর্তমানে প্রায় ৭০টি কৃষক পরিবারকে খুবই অসুবিধার মধ্যে দিয়ে ফসল সামগ্রী বাজারজাত করতে হচ্ছে৷ যেখানে উৎপাদিত ফসল সামগ্রী ৫ মিনিটে গাড়ি বোঝাই করা যেতে পারে সেখানে প্রায় ৩০ মিনিটের পথ হেঁটে গাণি বোঝাই করে তবেই বাজারজাত করতে হতো৷ তবে বর্ষার মরশুমে কৃষকদের আরো কষ্টের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনধারণের প্রক্রিয়া থামতে হচ্ছে৷
এদিকে এই কাজের গুণগতমান নিয়ে প্রথম দিকে কয়েকজন এলাকাবাসীরা জনৈক বাস্তুকারকে বারবার বলা সাপেক্ষেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির মদতে কাজ করে গেছেন বাস্তুকার৷ যদিও এলাকাবাসীরা বাস্তুকারের নামটুকু জানেন না৷ অভিযোগ বাস্তুকারকে বার কয়েক এলাকাবাসীরা জানিয়ে ছিলো ছড়ার বালির গভীরতা মেপে কাজ করার৷ কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার কাছে অভিজ্ঞতা যে হার মানায় তার হিসাব কতজন রাখেন৷ আর গ্রামবাসীদের ক্ষেত্রে এমনটাই হল৷ গ্রামবাসীদের কথা না শুনাতে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার আগেই বালিগর্ভে এক প্রান্তের পিলার চলে গেল সেতুর৷ বিগত কয়েক মাস পূর্বে বালি গর্ভে চলে যাওয়া পিলারের অন্য প্রান্তের পিলার বালিগর্ভে চলে নিয়ে যাওয়ার জন্য মেশিন সামগ্রী বসিয়ে কাজ করার প্রয়াস চালিয়েও গ্রামবাসীরা আপত্তি করাতে মেশিন সামগ্রী নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের৷ বর্তমানে সবাইকে জলের মধ্যে দিয়ে পারপার করতে হচ্ছে৷ এদিকে সুকল পড়ুয়া একাংশ ছাত্রছাত্রীদের অভিমত শীতের মরশুমে কঁচিকাচা ছাত্রছাত্রীদের ঠান্ডা হয়ে যায় ছড়ার জলে হাঁটতে হাঁটতে৷ যদিও ছাত্রছাত্রী রাজনীতি বুঝেন না৷ একথা সত্য, তবে যারা কোন অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের ছাড়েন না রাজনীতি বুঝক কিনা তাদের রাজনীতির পাঠ পড়াতে, তাদের সমস্যার যখন কেবলমাত্র একটি সেতুর জন্যে তাদের স্বার্থে কেন কথা বলেননি তারা৷ যাইহোক ডটকমের যগে তারা যতই বাঁধা হোক না কেন একটু জ্ঞান অর্জন করতে চায়৷ তাই তারা শত শত সমস্যার পথ পেরিয়ে একটু জ্ঞান অর্জন করতে চায়৷ বর্তমানে রামবাবু পাড়ার ৭০ কৃষক পরিবারের একাধিক ছেলেমেয়েরা পড়তে চায়৷ তারা বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে প্রতিদিন সুকলে যায়৷ একটু শিখতে চায় আসলে জীবনটা কেমন৷ জিসিএস ধরের একটি কবিতায় আসে, আসল রাজনীতি হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পথ দেখানোর৷ বর্তমানে এই সঠিক পথটা ধূসর বালিচড়ে হারিয়ে গেছে৷
এদিকে, একাংশ সাধারণ মানুষদের অভিমত, তারা ডটকমের যুগে রাজনীতি চান না৷ তারা ন্যায্য সুযোগ সুবিধা চান৷ তা কে দেবে, নিশ্চয় বর্তমান সরকার৷ যাদের কথায় বার বার ভোট দিয়ে কেউকে মন্ত্রী, বিধায়ক, সভাধিপতি, চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েতের প্রধান, এডিসি ভিলেজের এমডিসি, চেয়ারম্যান, সদস্য বানিয়েছেন তারা তো তাদের স্বার্থে কাজ করবেন৷ আর যদি তারা কাজ না করেন তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে কে চিরস্থায়ী হবে৷ তবে যাই হোক এলাকাবাসীরা আজ সচেতন হয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন, উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামবাবু পাড়ার সকলের দাবি অতিসত্বর যেন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে সকলের জন্য সেতু দিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করেন৷