News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • রাখাইন করিডোরে ইউটার্ন: সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার
Image

রাখাইন করিডোরে ইউটার্ন: সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার

ঢাকা, ২২ মে : মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে “মানবিক করিডোর” তৈরির প্রস্তাব থেকে হঠাৎ করেই পিছু হটেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই করিডোরকে আখ্যা দেন “রক্তাক্ত করিডোর” হিসেবে এবং কড়া সতর্কবার্তা জারি করেন অন্তর্বর্তী সরকার ও পররাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে।

সেনাপ্রধান স্পষ্ট জানান, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না, এবং কাউকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, “জাতীয় স্বার্থ সবার আগে। কোনো পদক্ষেপ রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।”

এরপরই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান—a যিনি কয়েক সপ্তাহ আগেই ইউনুস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত—ঘোষণা করেন, “সরকার এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের সঙ্গে রাখাইন করিডোর নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।” তিনি বলেন, “জাতিসংঘ শুধু জানতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত মানবিক সহায়তা পাঠানো সম্ভব কিনা। আমরা বলেছি—বিবেচনা করে দেখব।”

পররাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গত এপ্রিল মাসে বলেছিলেন, “রাখাইন রাজ্যে সহায়তা পাঠাতে জাতিসংঘ একটি মানবিক করিডোর চায়। সরকার শর্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।” তবে তিনি সেই শর্তগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।

বিরোধী দল বিএনপি ও কিছু বাম দল করিডোরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক। দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে না জানিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।”

ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, “এই করিডোর প্রকল্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের প্রস্তাব হলেও, এর বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। এটি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং সামরিক বা গোয়েন্দা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।”

এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত , “এই প্রস্তাব মূলত চীনের ল্যান্ড-টু-সি করিডোরকে আটকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূকৌশলগত কৌশলের অংশ।”

প্রাক্তন কূটনীতিক মুনশি ফয়েজ আহমদ বলেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এই করিডোরে আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, আমাদের স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত। অন্যথায় আমরা এমন এক ফাঁদে পড়ে যাব, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।”

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে প্রায় ১.১৮ লক্ষ রোহিঙ্গা কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছে। রাখাইনে গৃহযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সামরিক বাহিনীর চাপ ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে, অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার রাখাইন করিডোর থেকে সরে আসার মাধ্যমে স্পষ্ট করল যে, তারা এখনো নিজের অবস্থান সুসংহত করতে পারেনি এবং সেনাবাহিনীর ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করতে চায় না।

Releated Posts

আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালী পেরোল ভারতগামী এলপিজি জাহাজ

নয়াদিল্লি, ১৪ মে (আইএএনএস) : আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে পারস্য উপসাগর থেকে রান্নার গ্যাস নিয়ে…

ByByTaniya Chakraborty May 14, 2026

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নষ্টে ‘অভিবাসন ইস্যু’কে হাতিয়ার করছে আইএসআই: গোয়েন্দা সূত্র

নয়াদিল্লি, ১৩ মে (আইএএনএস) : ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ইস্যুকে কাজে…

ByByTaniya Chakraborty May 13, 2026

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথ অনুষ্ঠানে মার্কিন দূত, অসমের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত

গুয়াহাটি, ১২ মে (আইএএনএস): অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র দ্বিতীয়বারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অসমের সঙ্গে বাণিজ্যিক…

ByByTaniya Chakraborty May 12, 2026

বাংলাদেশে বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে প্রায় ২০০ আওয়ামি লিগপন্থী আইনজীবীর উপর নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ

ঢাকা, ১২ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অন্তত ১৩টি বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে প্রায় ২০০ আওয়ামি লিগপন্থী…

ByByTaniya Chakraborty May 12, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top