আগরতলা, ১৬ আগস্ট: দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় সহায়তার লক্ষ্যে উমপদ বর্মন ও অঞ্জলি বর্মন ট্রাস্টের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৯৩ জন দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে নগদ ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং বই তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. বুধারায় দেববর্মা-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে হবে। তাঁর মতে, এই শিক্ষার ঘাটতি থাকলে একজন পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অধ্যাপক হতে পারেন, কিন্তু প্রকৃত অর্থে একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছু অভিভাবকের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক মা-বাবা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর পর তাঁদের পড়াশোনা ও বিকাশের বিষয়ে যথেষ্ট খোঁজখবর রাখেন না। সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার শিক্ষাও দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
মানিক সরকার বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজ উভয়েরই। শিশুদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল্যবোধ তৈরি করা না গেলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
এদিন বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আট দশক পরেও দেশের বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের মতো সমস্যা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগামী দিনেও মানুষের স্বার্থে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, উমপদ বর্মন ও অঞ্জলি বর্মন ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।



















