নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): ভুল প্রশ্নপত্রের কারণে ইউজিসি-নেট-এর তিনটি বিষয়ে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষার অনিয়মের খেসারত দিতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। তাঁদের মূল্যবান সময় ও বছর ‘চুরি হয়ে যাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানায়, ইংরেজি, সমাজবিদ্যা ও কমার্স—এই তিনটি বিষয়ে ইউজিসি-নেট-এর পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল এবং পুরনো প্রশ্ন পুনরাবৃত্তির অভিযোগ পাওয়ার পর একটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, জুনের ২২ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে সমাজবিদ্যা, ইংরেজি ও কমার্সের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। প্রায় দু’মাস পর ওই তিনটি পরীক্ষা বাতিল করে সেপ্টেম্বরে আবার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়া হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে ফের ফর্ম পূরণ, ফি প্রদান এবং দূরের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করতে হবে।
রাহুল বলেন, “এনটিএ ভুল করে, কিন্তু শাস্তি পায় পড়ুয়া।” তাঁর দাবি, পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি অর্থ, সময়, মানসিক শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল কি না, সেই মূল প্রশ্নের জবাব এখনও এনটিএ দেয়নি।
‘ছাত্রদের গর্জন’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, কোটা, দেরাদুন ও প্রয়াগরাজে তাঁর কর্মসূচির সময় তিনি বলেছিলেন, এটি আর শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং একটি ‘এক্সট্রাকশন মেশিন’। তাঁর অভিযোগ, এই ব্যবস্থা পড়ুয়াদের কাছ থেকে টাকা ও বছরের পর বছর সময় নিয়ে বিনিময়ে চাকরিও দিতে পারছে না।
রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, এনটিএ-র নেতৃত্বকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি ছিল প্রথম পদক্ষেপ, শেষ নয়। সেপ্টেম্বরে ফের পরীক্ষায় বসতে চলা পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই সমস্যার কারণ নও।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য পড়ুয়াদের দায়ী করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনটিএ জানিয়েছে, সমাজবিদ্যার পুনঃপরীক্ষা হবে ১০ সেপ্টেম্বর এবং ইংরেজি ও কমার্সের পরীক্ষা হবে ৯ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনও ফি নেওয়া হবে না এবং আসনসংখ্যাও কমানো হবে না। বাকি ৮৪টি বিষয়ের ফল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছরের জুনে ৮৭টি বিষয়ে ইউজিসি-নেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে উত্তরপত্র প্রকাশে দেরি হওয়ায় এনটিএ-র বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। রবিবার অস্থায়ী উত্তরপত্র প্রকাশের পর ইংরেজি, কমার্স ও সমাজবিদ্যার প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলের অভিযোগ সামনে আসে।
ইউজিসি-নেট-এর মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের যোগ্যতা, পিএইচডি কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ-এর জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাতেও এনটিএ-কে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ৪৭ জন এনটিএ আধিকারিকের চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া এবং ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি এনটিএ-র তৎকালীন মহাপরিচালক সুবোধ কুমার সিংকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।























