তীব্র খরার পর স্বস্তির বৃষ্টি, প্রাণ ফিরলো তেলিয়ামুড়ার কৃষিজীবনে

তেলিয়ামুড়া, ১৭ এপ্রিল: দীর্ঘ তাপপ্রবাহ ও জলের তীব্র সংকটে যখন বিপর্যস্ত তেলিয়ামুড়ার কৃষিজীবন, ঠিক সেই সময়ই এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি যেন আশীর্বাদের মতো এসে হাজির। শুকিয়ে যাওয়া মাঠে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়ে কৃষকদের মুখে ফের হাসি ফোটাল বর্ষণ।

সূর্যের প্রখর তাপে পুড়ে যাওয়া জমি আর ফাটল ধরা ক্ষেতের চিত্র পাল্টে গেল মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে। তেলিয়ামুড়া মহকুমার বাইশগরিয়া, ব্রহ্মছড়া, হাওয়াইবাড়ি, তুইচিন্দ্রাই, খাসিয়া মঙ্গল, মোহরছড়া, কৃষ্ণপুর, মাইগঙ্গা ও মহারানীপুর সহ একাধিক কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে দেখা গেল এক অন্যরকম চাঞ্চল্য ও উচ্ছ্বাস।

স্থানীয় এক কৃষকের কথায়, “যেন মাটি আবার কথা বলছে, শুকিয়ে যাওয়া জমি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আজকের এই বৃষ্টি আমাদের নতুন করে বাঁচার সাহস দিল।”

প্রসঙ্গত, এই অঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর। চলতি মরশুমে ধান, শাকসবজি ও মৌসুমি ফসলের চাষে মন দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু টানা অনাবৃষ্টিতে অনেক জমিতে ফাটল দেখা দেয়, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। বহু কৃষক ইতিমধ্যে জমিতে চাষের জন্য বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করলেও জল না থাকায় তা বৃথা মনে হচ্ছিল।

বৃষ্টির পরে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। জমি যেমন সিক্ত হয়েছে, তেমনই কৃষকদের মনেও ফিরে এসেছে আশার আলো। যদি আবহাওয়া এমনই সহায়ক থাকে, তাহলে চলতি মরশুমে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।