সীমনা থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত ভারত – বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে রাজ্যপাল

আগরতলা, ৫ মার্চ : রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু আজ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সীমনা থেকে ভাগলপুর পর্যন্ত ভারত – বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ঘুরে দেখেন তারাপুর, জয়, ভাগলপুর সীমান্ত চৌকি (বি ও পি) এলাকাও। তারাপুর বি ও পি তে রাজ্যপালকে স্বাগত জানান বি এস এফ’ র ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি এ কে শর্মা, বাহিনীর তেলিয়ামুড়া সেক্টরের ডি আই জি টি নরসীমা রেড্ডি এবং ১০৪ নাম্বার ব্যাটেলিয়নের কমান্ডেন্ট নীরজ সিং জামুয়াল। রাজ্যপাল বি ও পিটি পরিদর্শনের পাশাপাশি জওয়ানদের সাথে মতবিনিময়েও অংশ নেন। বাহিনীর এই ১০৪ নাম্বার ব্যাটেলিয়ন ১৯৭১ সালের যুদ্ধে সিলেট জেলায় লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল বলে বি এস এফ’ র পক্ষে এখানে রাজ্যপালকে অবগত করা হয়। এছাড়া সেই যুদ্ধ স্মারকের প্রতিক দিয়েও সন্মানিতও করা হয় রাজ্যপালকে।

রাজ্যপাল এখানে বলেন, দেশের সুরক্ষায় সীমান্তে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করছে বি এস এফ’। সীমান্ত সুরক্ষায় আগামীদিনেও বি এস এফ অবিচল থেকে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জয় বি ও পি পরিদর্শনকালে বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র সম্পর্কে রাজ্যপালকে অবগত করান জওয়ানরা। ভাগলপুর বি ও পি তে রাজ্যপালকে স্বাগত জানান ৪২ নাম্বার ব্যাটেলিয়নের কমান্ডেন্ট অজয় কুমার। কাটাতারের বেড়া ও ফসলের মাঠকে পাশে রেখে সীমান্ত সড়ক ধরে এগিয়ে চলতে চলতে রাজ্যপাল সীমান্তের স্লুইস গেটও পরিদর্শন করেন।

এছাড়া রাজ্যপাল এদিন ঈশানপুর, ব্রক্ষকুন্ড এবং ভাগলপুর এই তিনটি পঞ্চায়েত এলাকায় পৃথক মতবিনিময় সভায়ও মিলিত হন। ঈশানপুরের সভাটি হয় ঈশানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। ব্রক্ষকুন্ড পঞ্চায়েতের সভাটি হয় ব্রক্ষকুন্ড মুক্তমঞ্ছে। বি এস এফ’ র ভাগলপুর বি ও পি, র সামনের মাঠে হয় ভাগলপুর পঞ্চায়েতের সভা। তিনটি সভাতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা, মহকুমা শাসক, ব্লক আধিকারিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভাগলপুরের সভায় ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাসও। তাছাড়া রাজ্যপালের দিনভর এই সফরে রাজ্যপালের সাথে ছিলেন বি এস এফ’ র ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আই জি এ কে শর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক ডাক্তার বিশাল কুমারসহ বি এস এফ, রাজ্য সরকারের সাধারণ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। মতবিনিময় সভাগুলিতে রাজ্যপাল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অবগত হন। এছাড়া কোথায় কি সমস্যা রয়েছে এসম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি। পাশাপাশি সমস্যাবলি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টিতেও নিয়ে যাবেন বলে জনগনকে আশ্বস্ত করেন রাজ্যপাল।