গুয়াহাটি, ৮ আগস্ট (হি.স.) : অসমে চালু হয়ে গেল ‘মুখ্যমন্ত্রীর নিযুত মইনা আঁচনি’। বাল্যবিবাহ রোধের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার এই প্রকল্প (আঁচনি) চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. রণোজ পেগু এবং পরিষদীয় মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়াকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যাখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা। প্রথমে ‘নিযুত মইনা আঁচনি’-র মানে বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিযুত’ মানে ‘দশ লক্ষ’ এবং ‘মইনা’ মানে ‘শিশু বা বালিকা’। এই প্রকল্পে দশ লক্ষ কন্যা শিক্ষাৰ্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ রোধ করতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। বালিকা কন্যাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার পথ প্রশস্ত করতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, দ্বাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সমস্ত কন্যা শিক্ষার্থীকে মাসিক স্টাইপেন্ডস প্রদান করা হবে। ‘নিযুত মইনা আঁচনি’তে ১০ লক্ষ সুবিধাভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এর জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা। সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে হায়ার সেকেন্ডারি (উচ্চ মাধ্যমিক) থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট (পিজি) স্তরের ছাত্রীদের জন্য এটা মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প।
প্রকল্পের সবিশেষ জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১০ মাসের জন্য প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি প্রথম বর্ষ এবং পিজি প্রথম বর্ষে নথিভুক্ত মেয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারি ও ভেঞ্চার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য। ভর্তি সংক্রান্ত ইনসেন্টিভও মহিলা ছাত্রদের প্রদান করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, (১) একাদশ শ্রেণিতে নথিভুক্ত ছাত্রীদের ১০ মাস মেয়াদে প্রতি মাসে এক হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা। (২) স্নাতক (ডিগ্রি যেমন বিএ, বিএসসি এবং বিকম) শ্রেণিতে নথিভুক্ত ছাত্রীদের জন্য ১০ মাস মেয়াদে প্রতি মাসে ১,২৫০ করে মোট ১২,৫০০ টাকা। (৩) স্নাতকোত্তর (পিজি যেমন বিএড/এমএ/এমএসসি/এমকম) প্রথম বর্ষে নথিভুক্ত ছাত্রীদের জন্য ১০ মাসের জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে মোট ২৫ হাজার টাকা (প্রজ্ঞা ভারতী স্কিমের অধীনে মোবিলিটি গ্রান্টকে নিযুত মইনা প্রকল্পের সাথে একীভূত করে)। চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য নয় মাসের জন্য এই সুবিধা দেওয়া যেতে পারে, বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, দ্বিতীয় বছর থেকে এজন্য কোনও আবেদন জমা দিতে হবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে একটি শংসাপত্র, প্রতিষ্ঠানে তার ধারাবাহিকতা প্রত্যয়িত সুবিধাগুলি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে।
এই প্রকল্প কন্যা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সরকারের ইতিমধ্যে চলমান ‘বিনামূল্যে ভর্তি’ প্রকল্পের পরিপূরক হবে, জানান তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই প্রকল্পের অধীনে বিধায়ক, সাংসদ এবং মন্ত্রীদের কন্যারা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
আজকের অনুষ্ঠানে শিক্ষা দফতরের উচ্চ এবং পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজন সুবিধাভোগী তরুণী ছাত্রীর হাতে এই প্রকল্পের অধীনে চেক তুলে দিয়েছেন।



















