হাফলং (অসম), ১০ অক্টোবর (হি.স.) : হাফলং সরকারি কলেজ ও মাইবাং ডিগ্রি কলেজকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করতে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়েছে হিলস ট্রাইব স্টুডেন্টস্ অর্গানাইজেশন (এইচটিএসও)। ডিমা হাসাও জেলার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে গঠিত হিলস ট্রাইব স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপের ডিমা হাসাওয়ের জেলাশাসক সীমান্ত কুমার দাসের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. রণোজ পেগুর উদ্দেশ্যে এক স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ডিমাসা স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তথা হিলস ট্রাইব স্টুডেন্টস্ অর্গানাইজেশনের সদস্য প্রমিত সেংইয়ং অন্যান্য ছাত্র নেতাদের পাশে বসিয়ে শিলচরের অসম বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে বিদ্যমান হাফলং সরকারি কলেজ ও মাইবাং ডিগ্রি কলেজকে হোজাইয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেট বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এর তীব্র বিরোধিতা করে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিলচরে অবস্থিত অসম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাই হাফলং সরকারি কলেজ ও মাইবাং ডিগ্রি কলেজকে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।
তাঁর অভিযোগ, সরকার অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হাফলং সরকারি কলেজ ও মাইবাং ডিগ্রি কলেজকে অবনমন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। কিন্তু ডিমা হাসাও জেলার ছাত্র সংগঠনগুলি তা কোনও অবস্থায় বাস্তবায়িত করতে দেবে না বলে জানিয়ে বলেন, ১৯৬১ সালে স্থাপিত হাফলং সরকারি কলেজ ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৪ সালে এই কলেজ শিলচরের অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রমিত সেংইয়ং বলেন, দীর্ঘদিন থেকে হাফলঙে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। হাফলং সরকারি কলেজে মাস্টার ডিগ্রির জন্য শুধু দুটি বিষয় রয়েছে। অথচ সরকার এ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। ডিফুতে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার সবসময় ডিমা হাসাও জেলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। এই পাহাড়ি জেলায় নেই কোনও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নেই মেডিক্যাল কলেজও। তবে ২০১২ সাল থেকে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের নির্মাণকাজ চলছে, যদিও এখনও ডিমা হাসাও জেলার কোনও ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পাননি, বলেন প্রমিত সেংইয়ং।
ডিমা হাসাও জেলায় একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি উত্থাপন করে প্রমিত বলেন, পাহাড়ি জেলায় স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা না হলে এবং ক্যাবিনেট বৈঠকে ডিমা হাসাও জেলার যে দুটি কলেজকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সরকাকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রমিত সেংইয়ং।



















