মাইবাঙে পুলিশের গুলিতে ডেজিগনেটেড ক্যাম্পের এক জঙ্গি–সদস্যের মৃত্যু, প্রশাসনিকস্তরে তদন্তের নির্দেশ জেলাশাসকের

– ঘটনাটি অতি দুৰ্ভাগ্যজনক, আক্ষেপ পুলিশ সুপারের

হাফলং (অসম), ১৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ডিমা হাসাও জেলার অন্তর্গত মাইবাং থানাধীন খাসমাইপুরে আজ ভোররাতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবক শান্তি চুক্তিতে সাক্ষর করে জাতীয় জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসা ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির এক সদস্য। তাছাড়া পুলিশের গুলিতে জখম হয়ে জঙ্গি সংগঠনটির আরও দুই সদস্য হাফলং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে ডিমা হাসাওয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তথা জেলাশাসক সীমান্ত কুমার দাস প্রশাসনিকস্তরে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সমগ্র ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে মাইবাঙের সদর মহকুমাশাসক (এসডিও সিভিল) মেঘঞ্জয় থাওসেনকে।

ঘটনাটি শুক্রবার ভোররাত দেড়টা নাগাদ সংঘটিত হয়েছে মাইবাং থানার অন্তর্গত খাসমাইপুর ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠনের ডেজিগনেটেড ক্যাম্পের কাছে। পুলিশের গুলিতে নিহত ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যের নাম আলি ডিমাসা ওরফে বাবুজিৎ হাপিলা (২৪)। তাছাড়া পুলিশের গুলিতে আহত দুই সদস্য যথাক্রমে রেইনবো ডিমাসা ওরফে থমাস নুনিসা ও দিবানন জহরি ওরফে তানজন ডিমাসা বলে জানা গিয়েছে।

নিহত আলি ডিমাসার বুকে গুলি লেগেছে এবং আহত দুই ডিএনএলএ সদস্যের মধ্যে একজনের গুলি লাগে পিঠে ও একজনের পায়ে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তারা দুজনেই বিপদমুক্ত।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে হাফলং থেকে পুলিশ সুপার ময়ঙ্ক কুমার মাইবাং গিয়ে সমগ্র ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে পুলিশ কেন ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ ইতিমধ্যে ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠন সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে সাক্ষর করে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এসেছে।

মাইবাংঙে পুলিশের গুলি চালনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার ময়ঙ্ক কুমার আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, মাইবাং থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মাহিদুল জামান বৃহস্পতিবার রাতে পেট্রোলিঙে বেরিয়েছিলেন। ভোররাত প্রায় ১.০০টা নাগাদ ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নতুন লাম্পুর কাছে ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠনের ক্যাম্প কমান্ডার সুমেশ বডো ওরফে প্রদাও ডিমাসার সঙ্গে দেখা হয় ওসির। তার কাছে ওসি মাহিদুল জানতে চান, এত রাতে তিনি বাইরে কেন? এত রাতে তার বাইরে থাকা উচিত নয় বলে ক্যাম্পে চলে যেতে বলেন। তখন ওসি মাহিদুল জামানের সঙ্গে ডিএনএলএ জঙ্গি ক্যাম্প কমান্ডার উত্তেজিত হয়ে বচসা শুরু করে।

কিছুক্ষণ পর প্রদাও ডিমাসা সেখান থেকে চলে যায়। পেট্রোলিং থেকে ফেরার সময় প্রদাও ডিমাসাকে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের মাইবাং জিরো পয়েন্টে আরও কয়েকজনের সঙ্গে দেখেন ওসি। সেখানেও আরেক দফা ওসির সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে প্রদাও ডিমাসা।

ওই ঘটনার পর মাইবাং থানার ওসি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক হয়ে খাসমাইপুর হয়ে পেট্রোলিং সেরে ফেরার পথে ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠনের ২২ থেকে ২৩ জন সদস্য ক্যাম্প থেকে দা লাঠি ভোজালি এয়ারগান নিয়ে পুলিশের গাড়িতে আক্রমণ করে। তবে পুলিশের চেয়ে ডিএনএলএ সদস্যদের সংখ্যা বেশি থাকায় পুলিশ নিজেদের সুরক্ষায় শূন্যে এক রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল, সাংবাদিকদের জানান পুলিশ সুপার।

পুলিশ যদি শূন্যে এক রাউন্ড গুলি চালায় তা-হলে আলি ডিমাসার বুকে কীভাবে গুলি লেগেছে, এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এ সম্পর্কে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে ময়ঙ্ক কুমার বলেন পুলিশ শূন্যে গুলি চালানোর পর ডিএনএলএ জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। তার পর পুলিশ কিছু দূর যাওয়ার পর দেখে রাস্তার ওপর গুরুতরভাবে আহত হয়ে আলি ডিমাসা পড়ে রয়েছে। পুলিশ তাকে তুলে মাইবাং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা আলি ডিমাসাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন, জানান পুলিশ সুপার।

তিনি বলেন, এর পর মাইবাং পুলিশ ডিএনএলএ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য আহত হয়েছে কিনা তা দেখতে খামসাইপুরে ডেজিগনেটেড ক্যাম্পে গিয়ে আরও দুই সদস্য যথাক্রমে রেইনবো ডিমাসা ও তানজান ডিমাসাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাদের হাফলং সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে দুজনই বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার। ঘটনাটি অতি দুঃখজনক বলে সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে সাক্ষরকারী ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সদস্যদের গ্রাউন্ড রুল মেনে ডেজিগনেটেড ক্যাম্পের নিয়ম-নীতি মেনে চলার আহ্বান জানান পুলিশ সুপার ময়ঙ্ক কুমার।