কলকাতা, ৭ জুলাই (হি.স.) : ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারি। শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁর গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি জানিয়ে দেন, কমিশনের নির্দেশ মেনে নিজের এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না শুভেন্দু। যেখানকার ভোটার সেখানেই ভোটের দিন থাকতে হবে বিরোধী দলনেতাকে। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের ভোটার। ফলে সেখানেই থাকবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার কাঁথি থানার পুলিশ শুভেন্দু অধিকারীর নামে একটি চিঠি পাঠায়। ভোটের দিন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক গতিবিধি কী হয়, তা মনে করিয়ে দিয়েই মূলত সেই চিঠি ছিল। বৃহস্পতিবার কাঁথি পুলিশের দেওয়া সেই চিঠিকে চ্যালেঞ্জ করেই শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে যান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এভাবে কাঁথি পুলিশ তাঁর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বেলা ১টায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই আবেদনের শুনানি রয়েছে। ২২ জেলার পঞ্চায়েত নির্বাচনী আধিকারিক এবং জেলাশাসককে রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিল। রাজ্য বা কেন্দ্রের নিরাপত্তা পায় এমন ‘পলিটিকাল ফানশনারিজ’ বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিজের বুথের বাইরে অন্য জায়গায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরতে পারবেন না। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রেও এই জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তারক্ষীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে ভোটের প্রার্থী হলে তাঁর ক্ষেত্রে এ নিয়মে শিথিলতার কথাও উল্লেখ ছিল কমিশনের নির্দেশিকায়।
সেই বিজ্ঞপ্তিকে উল্লেখ করেই কাঁথি পুলিশ শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠায়। বলা হয় ‘মডেল কোড অব কনডাক্ট’ সব পঞ্চায়েত এলাকায় বলবত থাকবে। ভোটের প্রচার শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজের ভোটদানের এলাকার ব্যতীত জনপ্রতিনিধি অন্য নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন না। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম বিধানসভার নন্দনায়কবাড়ের ভোটার। গাইডলাইন মেনে ভোটের দিন অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার কথাও বলা হয় কাঁথি পুলিশের চিঠিতে। যা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বলে মনে করছেন শুভেন্দু। সে কারণেই এদিন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলা ওঠে।
এদিন শুনানিপর্বে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী সৌম্য মজুমদার বলেন, কাঁথি থানা নোটিস দিয়েছে উনি যেখানে ভোটার নন, সেখানে যেতে পারবেন না। বিরোধী দলনেতার অনেক কাজ থাকে। কোনও কর্মী মার খেলে তাঁকে হাসপাতালে পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। পাল্টা কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা বলেন, সব রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এটা প্রযোজ্য। প্রার্থী যেতে পারেন। কিন্তু অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার তাঁর এলাকার বাইরে ঘোরাঘুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনেও একই নিয়ম।
বিচারপতি জানতে চান, কেন কাঁথি থানা এই নোটিস দিল। পাল্টা রাজ্যের আইনজীবী বলেন, বেশির ভাগ সময়ই কাঁথিতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই কাঁথি থানার আইসি এই নোটিস দিয়েছেন। এরপরই বিচারপতি সিনহা জানিয়ে দেন, কমিশনের নির্দেশই বহাল থাকবে। অর্থাৎ কমিশনের নির্দেশ মেনে নিজের এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না শুভেন্দু। যেখানকার ভোটার সেখানেই ভোটের দিন থাকতে হবে বিরোধী দলনেতাকে। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের ভোটার। ফলে সেখানেই থাকবেন তিনি।



















