‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিষিদ্ধ কেন, বাংলাকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, ১২ মে (হি. স.) : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছেন ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। কেন নিষিদ্ধ করা হল এই ছবি, তা জানতে চেয়ে এবার রাজ্যকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় প্রশ্ন করেন, ‘একটি ছবি যখন সারা দেশে চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গও দেশের থেকে আলাদা নয়। তাহলে পশ্চিমবঙ্গে নিষেধাজ্ঞার কী প্রয়োজন। মানুষ যদি ছবিটা পছন্দ না করেন, তা হলে দেখবেন না। জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন’।

রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, ‘আবেদনটি হাইকোর্টে করা উচিত ছিল। শুনানির কোনও যৌক্তিকতা নেই। পরবর্তীতেই প্রযোজকের তরফের আইনজীবী হরিশ সালভে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ছবিটি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সিনেমা হলগুলি ছবিটি সরাতে বাধ্য হয়েছে।

শুনানির পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু সরকারকে নোটিস পাঠায় শীর্ষ আদালত। যদিও তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, আমরা এই নিষেধাজ্ঞা জারি করিনি। প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা নিজেরাই ছবিটি সরিয়ে নেন। আদালত তামিলনাড়ু সরকারকে বলে, এটা আইন-শৃঙ্খলার বিষয়। আপনি থিয়েটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৭ মে। প্রসঙ্গত, অপপ্রচার বন্ধ করতে কড়া অবস্থান নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিনেমা চলাকালীন রাজ্যে হিংসার ছড়াতে পারে, এমন অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-কে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিকৃত তথ্য দিয়ে সিনেমা তৈরি হচ্ছে। একটি সম্প্রদায়কে নিয়ে সিনেমা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাতেও বেঙ্গল ফাইলস তৈরি করতে চাইছে।’

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, ‘রাজ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘ দ্য কেরালা স্টোরি’ চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। এই সিনেমায় যেসব দৃশ্য দেখানো হয়েছে তা রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে আশঙ্কা করে কলকাতাসহ সব জেলাতে এই ছবির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হল। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই রাজ্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত।’

উল্লেখ্য, বিতর্কের মাঝেই ৫ মে মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। যদিও কেরলের বিভিন্ন জেলায় এই ছবির প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই এই ছবি ঘিরে উত্তাল হয় সামাজিক মাধ্যম। ছবিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বাম-কংগ্রেস। এমনকী অভিযোগ তোলার চেষ্টা হয়, ছবির মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক মানসিকতা ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।