আগরতলা, ১২ ডিসেম্বর (হি. স.) : এসটিজিটি উত্তীর্ণ চাকুরী প্রত্যাশীদের আবারও একসাথে নিয়োগের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনকে ঘিরে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেছে। আন্দোলনকারীদের হটাতে গিয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। তাতে অনেকেই আহত হয়েছেন। আহতদের আইজিএম হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে তাঁদের সহানুভূতি জানাতে পৌছে গেছেন সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। বিকেলে সিপিএমের ছাত্র-যুব সংগঠন আগরতলার রাজপথে ওই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল সংগঠিত করেছে।
প্রসঙ্গত, একত্রে নিয়োগের দাবিতে এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশীরা গত তিন মাস ধরে আন্দোলন জারি রেখেছেন। চাকুরীর দাবিতে বিভিন্ন মন্ত্রিদের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। এরই মধ্যে ত্রিপুরা ২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত ৬১৭ জন এসটিজিটি শিক্ষককে নিয়োগ করেছে। কিন্তু, শূন্য পদ থাকা সত্বেও এসটিজিটি উত্তীর্ণদের চাকুরী দেওয়া হচ্ছে না, তাই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
সোমবার এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশীরা শিক্ষা মন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সমস্ত এসটিজিটি উত্তীর্ণদের নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এখন ত্রিপুরার আর্থিক অবস্থার বেহাল দশার কারণে অর্থ দফতর অনুমোদন দিচ্ছে না। তাঁদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অর্থ দফতরের অনুমোদন মিললেই সকলকে চাকুরী দেওয়া হবে। কিন্তু, এখন অর্থ দফতরের দোহাই দিয়ে নিয়োগ আটকে রেখেছে, বলেন জনৈক এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশী।
তাঁদের প্রশ্ন, টেট উত্তীর্ণদের একত্রে নিয়োগ করা সম্ভব হলে, এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশীদের অপরাধ কোথায়। এরই প্রতিবাদে আজ তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেছেন। তাতে, শিক্ষামন্ত্রী আটকে পড়েছিলেন। পুলিশী হস্তক্ষেপে শিক্ষামন্ত্রী বাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হন। কিন্তু, এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে হটাতে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠি চার্জ করেছে। তাতে, অনেকেই আহত হয়েছেন।
আহতদের পুলিশ উদ্ধার করে আইজিএম হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, খবর পেয়ে এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশী আহতদের সহানুভূতি জানাতে ছুটে যান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, বিধায়ক রতন ভৌমিক, কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদেশ নেতৃবৃন্দ। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশী নির্যাতনের অভিযোগ এনে এদিন বিকেলে সিপিএমের ছাত্র-যুব সংগঠন রাজপথ কাঁপিয়ে মিছিল করেছে। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।



















