যে কোন সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির বিকাশ আবশ্যক : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১২ নভেম্বর (হি. স.) : যেকোন সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির বিকাশ আবশ্যক। কোন অবস্থাতেই নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে ভুলা উচিৎ নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ত্রিপুরার সকল জাতি গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও রীতিনীতিকে রক্ষা করতে দায়বদ্ধ। আজ নজরুল কলাক্ষেত্রে ৩ দিনব্যাপী চাকমা ভাষা, লিপি এবং সংস্কৃতি-২০২২ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। আন্তর্জাতিক চাকমা সাহিত্য এবং সুদোম জদার উদ্যোগে এবং ধুদুক সামাজিক সংস্থার সহায়তায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আরও বলেন, ত্রিপুরায় ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠী রয়েছে। আবার তাদেরও রয়েছে অনেক সাব ট্রাইব। এদের মধ্যে চাকমা জনজাতি সমাজ অন্যতম। এই সমাজের ঐতিহ্যবাহী স্বতন্ত্রতা রয়েছে। তারা বর্তমানে শিক্ষা, সংস্কৃতি সবকিছুতেই এগিয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে ত্রিপুরায় একটি বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারও সমস্ত জনজাতি গোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, চাকমা জনজাতি সম্প্রদায়ের লোকেরা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। প্রভু গৌতম বুদ্ধের আদর্শ এবং নীতি সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত। সব মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হল মনুষ্যত্বের মূল মন্ত্র। সব সম্প্রদায়ের মানুষের সংস্কৃতি, ধর্ম, ভাষা নিয়ে এক সাথে চলতে হবে।আজ অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, নিজের ভাষা, সংস্কৃতিকে ভালোবাসার পাশাপাশি অন্যের ভাষা, সংস্কৃতিকে সম্মান করতে হবে। যেকোন জাতিকে উন্নতি করতে হলে তার নিজ ভাষা, সংস্কৃতিকে ভুললে চলবে না। তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জাতির মানুষের। অনুষ্ঠান উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী একটি স্বরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিজোরামের বিধায়ক ড. বুধাধন চাকমা, ত্রিপুরা রাজ্য কারবারি দেবযান চাকমা প্রমুখ।