বাঁকুড়া, ৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : গ্রামের মন্দিরে দেবী দুর্গার মন্দিরে অঞ্জলি দিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় অপমানিত বোধ করেছিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য গদাধর বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেদিনই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন বাড়িতেই করবেন মাতৃ আরাধনা। ঠিক তার পরের বছর থেকেই শুরু হয় পুজো।
এ প্রায় ৪০০ বছর আগের কথা। সেই রামও নেই, অযোধ্যাও নেই। অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে আজও পুজো হয় নিষ্ঠা সহকারে৷ অর্থের অভাব হোক, বা না হোক।
অযোধ্যার এই বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদার বংশের পুজোর পাশাপাশি জমিদারি লাভের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। শোনা যায়, অযোধ্যার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জনৈক রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে একসময় হাজির হন শ্রীরামপুরের এক নীলকর সাহেবের কাছে। কাজ শুরু করেন কেরানি হিসেবে। নিজের কাজ, সততা আর বুদ্ধিমত্তার জেরে খুব দ্রুত তিনি ওই নীলকর সাহেবের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। পরে ওই সাহেব তাঁকে দেওয়ান পদে আসীন করেন।
হঠাৎ ওই নীলকর সাহেব কলেরায় আক্রান্ত হলে তাঁর নিকটজনেরা সকলেই ছেড়ে চলে গেলেও যাননি রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় নীলকর সাহেব মৃত্যুর আগে তাঁর সম্পত্তির অর্ধেক রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে যান। নীলকর সাহেবের সেই সম্পত্তির মাধ্যমেই তিনি একের পর এক জায়গা কিনে নিজের অযোধ্যা গ্রামেই জমিদারি পত্তন করেন।
তৈরি হয় জমিদার বাড়ি, দেবোত্তর অ্যাস্টেট। এই অ্যাস্টেটে দ্বাদশ শিব মন্দির, গিরি গোবরধন মন্দির, রাস মন্দির, ঝুলন মন্দির তৈরি করেন। পরে তাঁরই বংশের গদাধর বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। এখন আর জাঁকজমক করে পুজো হয় না৷ কারণ সেই জমিদারি আর নেই। নেই বিপুল খরচের ক্ষমতা। তবে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজোতে মিশে থাকে নিষ্ঠা, শ্রদ্ধা, ভক্তি। এই পরিবারের সদস্যরা যে যেখানেই থাকুন না কেন, পুজোর সময় ছুটে আসেন গ্রামের পুজোয় অংশ নিতে।


















