কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি (হি. স.) : তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে রাজ্য সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
এই মুহূর্তে সব রকম জমায়েত এবং ভোট না হওয়ার ওপর প্রকাশ্যে সওয়াল করেছেন অভিষেক। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা পাওয়া না গেলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, দিনভর কলকাতা হয়ে অসংখ্য বাস এবং অন্যান্য পরিবহণে কয়েক হাজার মানুষ গঙ্গাসাগরে পৌঁছেছেন। এই প্রেক্ষাপটেই আবার সব কর্মসূচি বন্ধ রাখা নিয়ে অভিষেকের বক্তব্যের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলেছিলেন, ওই মত তাঁর ব্যক্তিগত। কল্যাণবাবুর মতে, ‘‘দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। তাই এই পদে থেকে কারও ব্যক্তিগত কোনও মত থাকতে পারে না। অনেক বিষয়ে আমারও ব্যক্তিগত মত আছে। দলীয় শৃঙ্খলার কারণেই তা প্রকাশ্যে বলা যায় না। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধাচারণ। এ ভাবে রাজ্য সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’’
এই সঙ্গে খোঁচা দিয়ে কল্যাণবাবু এ দিন বলেন , ‘‘বর্ষবরণের দিনে ডায়মন্ড হারবারে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়েছিল সেখানে কয়েক হাজার মানুষ ছিলেন। মুম্বইয়ের গায়ককে এনে জলসা হয়েছিল। সেখানে কি সংক্রমণের সম্ভাবনা ছিল না?’’ তৃণমূলের তরফে এখনও কল্যাণবাবুর মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্নমহলে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের উদ্যোগে রেকর্ড সংখ্যক করোনা পরীক্ষা নিয়ে বিরোধীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষাপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘রাজ্যে পরীক্ষার কিট কমছে আর ডায়মন্ড হারবারে বেড়ে গেল। রাজ্যে সংক্রমণের হার বাড়ছে আর সেখানে তা কমে গেল। একটা জায়গাকে মডেল তৈরি করতে এ সব করা হচ্ছে।’’রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, ‘‘ওই মডেল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সারা রাজ্যে তা চালু করে দিন। সকলের পরীক্ষা হোক, সকলে মাস্ক পান।’’

