নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওএসডি) রাজবীর গুমান-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল পাঞ্জাব সরকার। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শীল নাগু। এবার মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ গঠন করবেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
শুক্রবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানান, বিচারপতি শীল নাগুর পক্ষে এই মামলার শুনানি করা সম্ভব নয়। এরপর মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠানোর জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর নির্দেশে স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নেয় বিচারপতি দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তই মামলাটির শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ গঠন করবেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব সরকারের আবেদনের শুনানি শুক্রবার পর্যন্ত মুলতুবি রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানিয়েছিলেন, মামলার নথি দেরিতে বেঞ্চের কাছে পৌঁছেছে এবং বিচারপতি শীল নাগু নথিপত্র খতিয়ে দেখার সুযোগ পাননি।
বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে এই সময়ের মধ্যে কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়। তবে মামলার নথি পরীক্ষা না করে কীভাবে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। বিচারপতি দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের মন্তব্য ছিল, নথি না পড়ে কীভাবে এমন নির্দেশ দেওয়া সম্ভব?
গত ৫ অক্টোবর পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) পাঠানো তিনটি চিঠির ভিত্তিতে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে পাঞ্জাব সরকার।
হাইকোর্ট সিবিআইকে মামলা নথিভুক্ত করে দু’মাসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পাঞ্জাব সরকার ও রাজ্য পুলিশকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের ওএসডি রাজবীর গুমান এবং তাঁর সহযোগী নীতিন গোহাল ও বীর দেবিন্দর প্রশাসনিক বদলি ও পদায়ন এবং সরকারি দরপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছিল ইডি।
ইডির চিঠি পাওয়ার পরও পাঞ্জাব পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত না করায় আইনজীবী নিখিল সারাফ জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাঞ্জাব পুলিশ ও রাজ্য ভিজিল্যান্স বিভাগের প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থে সিবিআই তদন্তের আবেদন করা হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে সিবিআই এই ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার চণ্ডীগড় ও পাঞ্জাবের আটটি স্থানে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। তল্লাশির আওতায় ছিল চণ্ডীগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিস এবং সাঙ্গরুর ও মোহালিতে রাজবীর গুমানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থান।
বুধবার এই তদন্তের সূত্রে গুমান এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীকে চণ্ডীগড়ে সিবিআইয়ের দপ্তরে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়।
এখন সুপ্রিম কোর্টে নতুন বেঞ্চ গঠনের পর পাঞ্জাব সরকারের আবেদনের পরবর্তী শুনানি হবে।