দিনের খবর

বাংলার দুই উপনির্বাচনে বিজেপির বড় ব্যবধান, দুই দফার গণনা শেষে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এগিয়ে

কলকাতা, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। শুক্রবার দুই দফার গণনা শেষে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধানের থেকে ১৯,২০০-রও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী সখারাভ সরকার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রার্থী গোলাম নবী আজাদের থেকে ২১,০০০-রও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

নন্দীগ্রামে প্রাথমিক গণনার পর থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। দুই দফার গণনা শেষে তাঁর ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিআই প্রার্থী সনৎগোপাল গিরি।

অন্যদিকে, রেজিনগরে গণনার প্রথম দফায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি দুই দফার গণনা শেষে তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছেন। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সখারাভ সরকারের সঙ্গে এজেইউপি প্রার্থী গোলাম নবী আজাদের ভোটের ব্যবধান ২১,০০০ ছাড়িয়েছে।

দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই মোট ১৫ দফায় ভোট গণনা হওয়ার কথা। ফলে গণনা যত এগোবে, ততই চূড়ান্ত ফলাফলের প্রবণতা স্পষ্ট হবে।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পৃথক গোষ্ঠীই দুই কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের থেকে অনেক পিছনে রয়েছেন। দুই কেন্দ্রেই তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রামে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কোনও প্রার্থী দেয়নি। তবে রেজিনগরে এই গোষ্ঠীর প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ রেজিনগরে সপ্তম স্থানে রয়েছেন। নন্দীগ্রামে এই দলের প্রার্থী এহতেসামুল হক পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রেজিনগরের গণনার প্রবণতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক আশ্বাসের সঙ্গে এই প্রবণতার যোগ থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করবে না।

ওই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, “এই প্রবণতা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশও মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আশ্বাসের কথা মাথায় রেখে শাসকপক্ষের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন রেজিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। তাঁর অভিযোগ, ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণে কী ধরনের প্রহসন হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী যে ফলাফলের কথা বলেছিলেন, বর্তমান প্রবণতা ঠিক সেই দিকেই এগোচ্ছে।

দুই কেন্দ্রেই ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। গণনা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাতেই চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।