প্রধান খবর

ক্যানসারের ওষুধে মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ কেন্দ্রের, বছরে ২,৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের আশা

নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): ক্যানসারের ওষুধের অতিরিক্ত দাম নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্ধারিত তালিকার বাইরে থাকা ক্যানসারের ওষুধের সরবরাহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্যের (এমআরপি) ৩০ শতাংশের বেশি মুনাফার সুযোগ থাকবে না। এর ফলে ওষুধের দাম সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং ক্যানসার রোগীদের বছরে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের এক সরকারি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বর্তমানে অত্যাবশ্যকীয় ক্যানসারের ওষুধের মধ্যে যেগুলি নির্ধারিত তালিকাভুক্ত, সেগুলির সর্বোচ্চ মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেয়। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই তালিকার বাইরে থাকা ক্যানসারের ওষুধগুলির ক্ষেত্রেও মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ওষুধ প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, কোন কোন ওষুধকে এই নতুন নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে, তা চূড়ান্ত করবে স্বাস্থ্য পরিষেবা মহাপরিচালকের অধীন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। এরপর জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ (এনপিপিএ) এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় আনুমানিক ৬০ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র।

এনপিপিএ-র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, নির্ধারিত তালিকার বাইরে থাকা ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ১৭০ শতাংশ অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই হার ৭০০ শতাংশ বা তারও বেশি। খুচরো ওষুধের দোকান, হাসপাতালের নিজস্ব ওষুধের দোকান এবং অনলাইন বিক্রয় ব্যবস্থায় একই ওষুধের দামের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।

মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও কর্ণাটকের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ক্যানসারের ওষুধের অতিরিক্ত দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওষুধ কেনার প্রকৃত মূল্য এবং সর্বোচ্চ খুচরো বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধানের বিষয়টিও সরকারের নজরে আনা হয়।

এর আগে ২০১৯ সালে ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ২০১৩-এর আওতায় এনপিপিএ ৪২টি নির্দিষ্ট তালিকার বাইরের ক্যানসারের ওষুধের ব্যবসায়িক মুনাফার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছিল। সরকারের দাবি, সেই সিদ্ধান্তের ফলে ৫২৬টি ব্র্যান্ডের ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো বিক্রয়মূল্য ৯১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯৮৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল বলে জানানো হয়।

নতুন সিদ্ধান্তে দেশীয় ও আমদানি করা, ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক, পেটেন্টযুক্ত ও পেটেন্টবিহীন, সব ধরনের নির্ধারিত তালিকার বাইরের ক্যানসারের ওষুধকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদনকারীদের বর্তমান উৎপাদনের মাত্রা বজায় রাখতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জীবনদায়ী ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।