আগরতলা, ২৩ আগস্ট: জাতীয় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চললেও রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় বৃষ্টির ফলে রাস্তার জল ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মান্দাইয়ের চম্পকনগর এলাকার একাধিক বাড়িঘর, পুকুর ও কৃষিজমি। প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে আজ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হওয়ার পর রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির জল সরাসরি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এর আগেও একই সমস্যার প্রতিবাদে এলাকায় অবরোধ করেছিলেন তাঁরা। সেই সময় জিরানিয়া মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে ড্রেন নির্মাণ করে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাসের প্রায় তিন মাস পরেও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফলে গত রাতের প্রবল বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাস্তার জল ঢুকে পড়ে একাধিক বাড়িতে। জলমগ্ন হয়ে পড়ে পুকুর ও জমিও। স্থানীয়দের দাবি, জল ঢুকে বাড়িঘরের পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। অনেক পরিবার বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারছে না। জলমগ্ন হয়ে আছে এলাকার বাড়িঘরগুলি।
বিক্ষোভকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ জানান, রাস্তার জল সরাসরি বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। আগেও অবরোধের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে ড্রেন তৈরির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ হয়নি। তাঁর দাবি, “আমরা অন্য কিছু চাই না। দ্রুত ড্রেন তৈরি করে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেই মানুষের বাড়িঘর বাঁচবে।”
এদিন সমস্যার সমাধানের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং রাস্তার দুই পাশে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অবরোধ শুরু হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রশাসনের কোনও আধিকারিক বা সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেননি।
স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রতি বছর বর্ষার সময় জল জমে সমস্যায় পড়তে হয়। এবার জাতীয় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের সঙ্গে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অবিলম্বে ড্রেন নির্মাণ করে রাস্তার জল যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, ড্রেন নির্মাণ ও স্থায়ী জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



















