ওয়াশিংটন, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর প্রধান মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন-এর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হিন্দুপ্যাক্ট। সংগঠনটির অভিযোগ, ভাগবতের সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ একটি ‘মানহানিকর প্রচার অভিযান’ চালাচ্ছে এবং হিন্দু প্রতিষ্ঠানগুলিকে অন্যায়ভাবে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান র্যামনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হিন্দুপ্যাক্ট জানায়, ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলস ভাগবতের আমেরিকা সফরের বিরোধিতা করে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ইউএসসিআইআরএফ ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকে হিন্দু সংগঠন ও ভারতের বিরুদ্ধে আদর্শগত আক্রমণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে।
হিন্দুপ্যাক্ট বলেছে, “এটি কোনও পর্যবেক্ষণ নয়। বরং হিন্দু সভ্যতাভিত্তিক সংগঠনকে অপরাধ হিসেবে দেখানো, হিন্দু জনজীবনের নেতৃত্বকে কলঙ্কিত করা এবং আমেরিকান জনমতের কাছে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐতিহ্যকে সন্দেহজনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা।”
আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মিলসের আহ্বানও সমালোচনা করেছে হিন্দুপ্যাক্ট। তাদের দাবি, এই ধরনের দাবি ‘যথাযথ প্রমাণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং তথ্যভিত্তিক কঠোরতা’ ছাড়াই করা হয়েছে।
হিন্দুপ্যাক্ট আরও অভিযোগ করেছে, আমেরিকায় হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ, মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দুদের নাগরিক পরিসরে বঞ্চনার মতো বিষয়গুলির প্রতি ইউএসসিআইআরএফ যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
ভাগবতের সফরের বিরুদ্ধে প্রচারে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল এবং হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস-এর সমর্থনেরও অভিযোগ করেছে হিন্দুপ্যাক্ট। তবে বিবৃতিতে ওই তিন সংগঠন বা ইউএসসিআইআরএফ-এর কোনও প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
হিন্দুপ্যাক্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ অভিযোগ করেন, ইউএসসিআইআরএফ তার মূল দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ‘হিন্দু-বিরোধী বয়ান’ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আরএসএস নিয়ে কথা বলার সময় ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ারম্যানকে একটি বহুত্ববাদী মার্কিন কমিশনের প্রধানের তুলনায় ‘কঠোর হিন্দু-বিরোধী বয়ানের সমর্থক’ বলেই বেশি মনে হচ্ছে।
শাহ আরও বলেন, মোহন ভাগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর দাবি, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণকাজ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে কাজ করে আসছে।
হিন্দুপ্যাক্টের বক্তব্য, আরএসএস আধুনিক হিন্দু সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক শক্তি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সমাজসেবা, শিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, হিন্দু সংগঠনগুলি জনপরিসরে দৃশ্যমানতা বাড়ালেই ‘বাছাই করা ক্ষোভ’, ‘দোষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন’ এবং হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতকে স্বীকার না করার প্রবণতা দেখা যায়।
হিন্দুপ্যাক্ট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা এবং মার্কিন নাগরিকদের কাছে মানবাধিকার রক্ষার নামে পরিচালিত ‘সাম্প্রদায়িক লবিং’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ ১৯৯৮ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী গঠিত একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় মার্কিন ফেডারেল কমিশন। বিদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের কাছে নীতিগত সুপারিশ করে। তবে কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয়।



















