আগরতলা, ২২ আগস্ট: মোহনপুরের শনিতলা এলাকার নবীনপল্লী পাড়ায় এক গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার বাড়ি থেকে পূজা ঘোষ নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী ইন্দ্রজিৎ গোপের সঙ্গে পূজা ঘোষের কথা কাটাকাটি হয়। স্বামীর দাবি, রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এরপর তিনি বাড়ির অন্য একটি ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে পরিবারের সদস্যরা পূজাকে ডাকাডাকি করলেও তাঁর কাছ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে সিধাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পূজা ঘোষের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে মৃতার ছোট বোনের বক্তব্য ঘিরে ঘটনায় নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, শুক্রবার রাতে দিদির সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। সেই সময় পূজা তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর কিছু হয়ে গেলে যেন মা-বাবার খেয়াল রাখেন। এই কথার ভিত্তিতে মৃতার ছোট বোনের অভিযোগ, তাঁর দিদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মৃতার স্বামী ইন্দ্রজিৎ গোপ অবশ্য দাবি করেছেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির পর পূজা নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে, মৃতার বোনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে পূজার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিধাই থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা রয়েছে।



















