উদয়পুর, ২২ আগস্ট: উদয়পুর থেকে এক তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে বাংলাদেশে পাচারের আশঙ্কা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিখোঁজ তরুণী সোনিয়া আক্তারের মা রাজু বেগম উদয়পুর আর কে পুর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে মেয়েকে দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সোনিয়ার স্বামী সোহেল পোদ্দার এবং বক্সনগরের আদমপুর এলাকার বাসিন্দা জীবন মিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সামাজিকভাবে সোনামুড়া চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা সোহেল পোদ্দারের সঙ্গে সোনিয়া আক্তারের বিয়ে হয়।
পরিবারের দাবি, সোনিয়া তাঁদের একমাত্র মেয়ে।
সোনিয়ার মা রাজু বেগমের অভিযোগ, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরও বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে থানায় জানানো হয়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তাঁর বাপের বাড়িতে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই বিভিন্নভাবে খোঁজখবর শুরু করেন।
পরিবারের অভিযোগ, খোঁজ করতে গিয়ে বক্সনগরের আদমপুর এলাকার জীবন মিয়ার নাম সামনে আসে। তাঁদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে সোনিয়াকে জীবন মিয়ার বাড়িতে রাখা হয়েছিল। পরে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলে বাড়ি থেকে সোনিয়ার কিছু জামাকাপড় উদ্ধার হয় বলে পরিবারের দাবি। প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে জীবন মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন সোনিয়ার মা।
এরপর থেকেই সোনিয়াকে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে আশঙ্কা আরও বেড়েছে। রাজু বেগমের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে বাংলাদেশে পাচারের ঘটনায় জামাই সোহেল পোদ্দার এবং জীবন মিয়া জড়িত থাকতে পারেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয় এবং তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
এদিকে সোনিয়ার মা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ আগস্ট সোনিয়ার স্বামী সোহেল পোদ্দার এবং তাঁর বড় ভাই তাঁকে উদয়পুর মহিলা থানায় নিয়ে যান। সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতিতে একটি কাগজে তাঁর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। ওই কাগজে কী লেখা ছিল এবং কী কারণে তাঁর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁকে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন রাজু বেগম।
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামী সোহেল পোদ্দারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবারের অভিযোগ। ফলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জীবন মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক ও নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একদিকে মেয়ে কোথায় রয়েছে, তাঁকে আদৌ বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় পরিবার। অন্যদিকে নিখোঁজের পর কেন দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানো হয়নি, জীবন মিয়ার বাড়িতে সোনিয়ার জামাকাপড় কীভাবে গেল এবং তাঁর মায়ের কাছ থেকে কী কারণে কাগজে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নেরও উত্তর চাইছে পরিবার।
ঘটনার পর উদয়পুর ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোনিয়ার পরিবারের দাবি, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ তরুণীকে উদ্ধার করুক এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং তদন্তকারী পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। ফলে সোনিয়া আক্তারের নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



















