নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ আগস্ট: জ্ঞান, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতাই উন্নতির মূল চাবিকাঠি। ভালো কাজের উপরই মানুষের পরিচয় বহণ করে। তাই মানুষের সেবায় জাতপাত, ধর্মের উর্দ্ধে গিয়ে আধিকারিকদের কাজ করে যেতে হবে। আধিকারিকদের স্বচ্ছতা, সততার মধ্য দিয়ে কাজ করে জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করতে হবে। যে যত বেশি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে পারবে সে তত দক্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক হতে পারবেন। আজ প্রজ্ঞা ভবনে পিএনটি দপ্তর ও শিপার্ড এর উদ্যোগে টি সি এস ২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে বিকশিত ভারত হিসাবে গড়ে তুলতে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছেন। ত্রিপুরাকেও বিকশিত ত্রিপুরা করতে রাজ্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজগুলি রূপায়িত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। নবাগত আধিকারিকদেরও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে নিজেদের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। তাতেই তাদের কাজের সার্থকতা আসবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিজেদের সবসময় সচেষ্ট হতে হবে। মানুষের সেবার কাজ যে যত বেশি করবে সে তত বেশি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করবে এবং নিজেও সুনাম অর্জন করবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশকে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। সেই দিশায় রাজ্য সরকারও রাজ্যকে ডিজিটাল ত্রিপুরা করতে একধাপ এগিয়ে গেছে। চাকুরি শুধু রোজগারের জন্য নয়, সেটাকে কাজে লাগাতে হবে মানুষের সেবায়। রাজ্য সরকারের সঠিক কাজের ফলেই ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে জিডিপিতে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং উন্নয়নমূলক ভালো কাজের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছে। এছাড়া জি-২০র মতো সামিট করতে পেরেছে। রাজ্য সরকার বর্তমানে জনগণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক স্তরে বিভিন্ন আধিকারিক নিয়োগ করেছে। রাজ্য সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নে আধিকারিকদের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারলেই ত্রিপুরাবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। দেশের নীতি আয়োগ রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসাবে ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী টিসিএস আধিকারিকদের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নবাগত টি সি এস আধিকারিকদের এই ব্যাচ প্রশাসনে যুক্ত হলে রাজ্যে প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিপার্ডের অধিকর্তা অপূর্ব রায়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টি সি এস ২০২৬ ব্যাচের ২৭ জনের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন।



















