রাঁচি, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ড সরকার ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন এবং টিডিপিএল-এর মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করার পর মঙ্গলবার অনশন প্রত্যাহার করলেন চার পড়ুয়া। তবে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে সিবিআই তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার ফোরাম।
অনশনরত চার আন্দোলনকারী—ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো, উম্মে হাবিবা, প্রেম নায়েক এবং কুশ মাহতো—রাঁচি সদর হাসপাতালে রাত প্রায় ১টা ১৫ মিনিটে অনশন ভঙ্গ করেন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং এবং ইরফান আনসারি তাঁদের শরবত খাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনশন ভঙ্গ করান।
অনশন ভঙ্গের পর দেবেন্দ্র নাথ মাহতো বলেন, “আজ আমাদের অনশনের ১৬তম দিন। আমরা মর্যাদার সঙ্গে অনশন শেষ করেছি। ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি, মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে এবং বিধায়ক জয়রাম মাহতোর যৌথ উদ্যোগে অনশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে দাবিগুলির জন্য আমরা সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম, তার সবই পূরণ হয়েছে।”
জেএলকেএম সভাপতি জয়রাম কুমার মাহতোও সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সিজিএল পরীক্ষার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই নিয়োগের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও সরকার পড়ুয়াদের আবেগ ও দাবিকে সম্মান করেছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে জেএসএসসি-সিজিএল এবং টিডিপিএল-এর মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘোষণার পর জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও আন্দোলনকারীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, মিষ্টি বিতরণ করেন এবং স্লোগান দেন। রং ও আতশবাজির মাধ্যমেও তাঁরা আনন্দ প্রকাশ করেন। ২৪ দিন ধরে চলা আন্দোলনের পর জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে তাঁরা বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের আন্দোলন পুরোপুরি শেষ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগের সিবিআই তদন্তই তাঁদের অন্যতম প্রধান বকেয়া দাবি।
জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার ফোরাম-এর মুখপাত্র রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, পরীক্ষা বাতিলের মাধ্যমে সরকার তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি মেনে নিয়েছে। কিন্তু সিবিআই তদন্ত নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
ছাত্রনেতা পীযূষ কুমার সরকারের সিদ্ধান্তকে “প্রথম বড় জয়” বলে উল্লেখ করলেও ১১তম থেকে ১৩তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা-সহ আরও কয়েকটি বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে বলে জানান। সরকারি সিদ্ধান্ত এবং বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করার পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে বলেও তিনি জানান।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছিলেন, জেএসএসসি-সিজিএল সংক্রান্ত এসআইটি এবং সিআইডি তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কথিত যোগসাজশের ইঙ্গিতও তদন্তে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-এর মাধ্যমে পরিচালিত নিয়োগ পরীক্ষাগুলির বিষয়ে একটি ব্যাপক তদন্তের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম রোধের জন্য সংস্কারের সুপারিশ করতে আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।



















