আগরতলা, ১৭ আগস্ট: স্মার্ট মিটার বাতিল, বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নতির দাবিতে আগরতলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল সিপিআইএম সদর মহকুমা কমিটি। সোমবার রাজধানীতে মিছিল করার পর বনমালীপুরস্থিত বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী তথা সিপিআইএম নেতা মানিক দে। তিনি বলেন, নষ্ট মিটার সময়মতো পরিবর্তন করে নতুন মিটার বসানো, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলের রিডিং নেওয়া এবং বকেয়া বিল আদায়ের ব্যবস্থা সঠিকভাবে করা হলে অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রয়োজন হয় না।
মানিক দে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ মানুষের অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা হওয়ায় গ্রাহকদের প্রতি বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী সংস্থার দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের নীতিতে সেই দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্যের বিদ্যুৎ নিগমের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সরকার সরাসরি দায় এড়িয়ে যেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী। এদিনের কর্মসূচিতে সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করে বনমালীপুর বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান। সেখানে স্মার্ট মিটার বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম নেতা অমল চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ বিলে একের পর এক নতুন চার্জ যুক্ত করা হচ্ছে এবং স্মার্ট মিটার বসানোর পর অনেক গ্রাহক অস্বাভাবিক বিলের সমস্যায় পড়ছেন।
অমল চক্রবর্তীর আরও অভিযোগ, গ্রাহকদের আপত্তি সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিপিআইএম নেতৃত্বের দাবি, গ্রাহকদের স্বার্থে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া বন্ধ করা, বিদ্যুৎ বিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবার সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



















