নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ আগস্ট: প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, অধিকার ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে হেজামারা ব্লকের কনফারেন্স হলে এক জেলা-স্তরের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অটল বায়ো অভ্যুদয় যোজনা বা এভিএওয়াই এর অধীনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও রাজ্য কর্মপরিকল্পনা অনুসারে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প, তাদের অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সুবিধাভোগীদের সচেতন করা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রবীণ নাগরিকগণ পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অবদানকে সম্মান করা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করা পরিবার ও সমাজের সকলের দায়িত্ব। তিনি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষভাবে অভিভাবক ও প্রবীণ নাগরিকদের ভরণপোষণ ও কল্যাণ আইন, ২০০৭-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক, প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, ভরণপোষণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সুবিধাভোগীদের অবহিত করা হয়। তিনি প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের আরও সহানুভূতিশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, এমডিসি রবীন্দ্র দেববর্মা, মোহনপুর মহকুমার মহকুমা শাসক শান্তনু বিকাশ দাস, হেজামারা ব্লকের বিডিও মানস মুরাসিং প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেজামারা বিএসি-র চেয়ারম্যান সুনীল দেববর্মা। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক দীপক লাল সাহা। তিনি কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দপ্তরের বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন। সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা, পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের আইনগত অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তা ও জরুরি পরিষেবার জন্য এন্ডার লাইন ১৪৫৬৭ সম্পর্কেও উপস্থিতদের সচেতন করা হয়। প্রবীণ নাগরিকরা যাতে প্রয়োজনের সময় সহায়তা, পরামর্শ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবা পেতে পারেন সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিগণ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন।



















